রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) থেকে আটক হওয়া আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে সন্ত্রাস দমন আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সাংবাদিকও রয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম।তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আজকের (গতকাল) ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে শাহবাগ থানায় করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।এর আগে নিজেদের জুলাই যোদ্ধা দাবি করে একদল লোক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বহিষ্কৃত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনকে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় পণ্ড হয়েছে ‘মঞ্চ ৭১’ সংগঠনের গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ বলছে, ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে উপস্থিত একদল ব্যক্তির বাধায় অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়।এরপর ডিআরইউতে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকার পর অনুষ্ঠানে আগত সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনসহ আরো পাঁচ-ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানীর মিন্টো রোডের ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল রাত ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁরা ডিবি কার্যালয়ে ছিলেন।গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ তাঁদের কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর জানান, সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ পাঁচ-ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।গতকাল সকালে ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘মঞ্চ ৭১’। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ও গণফোরামের সাবেক সভাপতি ড. কামাল হোসেনের। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী জেড আই খান পান্নার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে তাঁরা আসেননি।নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় গোলটেবিল আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১১টায় তা শুরু হয়।আলোচনাসভায় প্রথমে বত্তৃদ্ধতা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার পাঁয়তারা চলছে। এর পেছনে রয়েছে জামায়াত-শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে তাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরাচ্ছেন।’ তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল লোক মিলনায়তনে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘জুলাইয়ের যোদ্ধারা এক হও, লড়াই করো’—এসব স্লোগান দেয়। এতে অনুষ্ঠানস্থলে হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। এ সময় অনেকে বের হয়ে গেলেও লতিফ সিদ্দিকীসহ প্রায় ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের কর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এ সময় লতিফ সিদ্দিকীকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল, ফ্যাসিবাদের দালাল’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। জবাবে লতিফ সিদ্দিকী জানান, তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে আর যুক্ত নন।








