বাংলাদেশে প্রতিদিন তামাকের কারণে গড়ে ৩৫৬ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে। বছরে এই সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি। অথচ এত বিপুল প্রাণহানি সত্ত্বেও তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে গড়িমসি লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকার রাজস্ব হারানোর ভয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হলেও প্রকৃতপক্ষে স্বাস্থ্য ব্যয় ও উৎপাদনশীলতার ক্ষতির দিক থেকে হিসাব করলে এই রাজস্ব লাভ নয়, ক্ষতিই বহুগুণ বেশি।ধানমণ্ডির ডাম অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। মতবিনিময়সভার আয়োজন করে ‘স্বাস্থ্য সেক্টর ও ঢাকা আহছানিয়া মিশন’। বিশ্বে প্রতিবছর সাত কোটি মানুষের মৃত্যু হয় তামাকের কারণে, যার মধ্যে এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ মারা যায় পরোক্ষ ধূমপানের কারণে। বাংলাদেশে তামাক শুধু স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নয়, বরং দারিদ্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও বড় অন্তরায়।দরিদ্র পরিবারগুলোর মাসিক খরচের একটি বড় অংশ তামাক ও এর চিকিৎসায় ব্যয় হয়। ফলে তারা আরো দরিদ্র হয়ে পড়ে। অন্যদিকে তামাক চাষে ব্যবহৃত হচ্ছে এক লাখ একরের বেশি উর্বর জমি, যা খাদ্যশস্য উৎপাদনে ব্যবহার করা যেত। একই সঙ্গে বন উজাড় ও পরিবেশদূষণ করে তামাক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সব কটির জন্য হুমকি তৈরি করছে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সঠিকভাবেই বলেছেন, শক্তিশালী আইন ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন ছাড়া পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে এর সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাও সমান জরুরি। মতবিনিময়সভায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ বলেন, ‘আইন করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ঘর থেকে সন্তানদের শিক্ষা দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আমরা ধূমপানমুক্ত একটি সমাজের কথা বলতে পারি। এ জন্য ধূমপানমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যকে সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে নিতে হবে।তিনি বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে সামনে জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে বিষয়টি যুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া তামাক চাষিদের আইনের চাপে না ফেলে ধান চাষের বিষয়ে উৎসাহিত ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি শুধু কাগজে নয়, বাস্তব পদক্ষেপে প্রতিফলিত হতে হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এখনই কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিবার থেকে শিক্ষা দেওয়া, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধূমপানমুক্ত একটি সমাজ গড়তে পারে।