তিন দফা দাবি না মানা পর্যন্ত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সংগঠন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ। এ সময় আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে ওয়ালী উল্লাহ বলেন, ‘দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলছে, তা অব্যাহত থাকবে।আগামী সপ্তাহের শুরুতে বিভাগীয় সমাবেশ করা হবে। এরপর ঢাকায় একটি জাতীয় সমাবেশ করা হবে।’তিনি বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার পর ডিএমপি কমিশনার ক্ষমা চাইলেও এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।ওয়ালী উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা বিবেচনায় যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে ওয়ার্কিং কমিটিতে শিক্ষাবিদদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ উপদেষ্টা ও সচিবরা বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। আমরা ওই কমিটিকে ১৫ দিনের বেশি সময় দিতে চাই না।’
এক ঘণ্টা মৎস্য ভবন মোড়ে অবরোধ : সংবাদ সম্মেলনে আগে গতকাল বিকেলে প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ মিনার, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন, প্রেস ক্লাব ও হাইকোর্ট হয়ে মৎস্য ভবনের সামনে আসেন।তাঁরা ডিএমপি সদর দপ্তরে যাচ্ছিলেন। তবে মৎস্য ভবন মোড়ে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। পরে মিছিলকারী শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় মৎস্য ভবন মোড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে কদম ফোয়ারার দিক থেকে শাহবাগে যাওয়া আংশিক রাস্তায় ধীরে যানবাহন চলতে দেখা গেছে।এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা অ্যাম্বুল্যান্স যেতে দিচ্ছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাঁরা মৎস্য ভবন মোড় ছেড়ে যান। মৎস্য ভবন মোড়ে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছেন। এরপর শিক্ষার্থীরা রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) সামনে অবস্থান নেন। এতে শাহবাগের দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের দাবি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। গতকাল সচিবালয়ে প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের পেশাগত দাবির যৌক্তিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটির প্রথম সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।এ সময় তিনি বলেন, ‘যারা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের অভিভাবক ও চাকরিদাতাদের সঙ্গে বসা হবে। হঠাৎ করেই তিন দফা বা সাত দফা বা তার খণ্ডিত অংশ মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া যায় না। তাই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনের পর সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। তাই নতুন আর কর্মসূচির প্রয়োজন নেই।’সভা শেষে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বিএসসি ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে গণপূর্তসচিবকে প্রধান করে ১৪ জনের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে, যেখানে বিএসসি ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের প্রতিনিধিসহ জনপ্রশাসন ও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি থাকবেন। আজ (বৃহস্পতিবার) থেকেই তাঁরা কাজ শুরু করেছেন। সবার বক্তব্য তাঁরা শুনবেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা চাইলে উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিও তাদের বক্তব্য শুনবে। এক মাসের মধ্যে সরকারকে সুপারিশ করা হবে।’
এনসিপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : বিএসসি প্রকৌশলী ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটির পক্ষ থেকে এই নিন্দা জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিএসসি প্রকৌশলী ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার কোনো সমাধানযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ না করে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। সরকারের এই দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণে আন্দোলন আরো ঘনীভূত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিএসসি প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীরা কাকরাইলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে সবাই নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের দাবি উত্থাপন করবে এবং সরকারের দায়িত্ব হলো সব অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছানো। ছাত্র-জনতার উত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা এমন একটি বাংলাদেশেরই প্রত্যাশা করি। কিন্তু গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আমরা লক্ষ করলাম, বিএসসি প্রকৌশলী ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে পুলিশ ন্যক্কারজনক হামলা করেছে। এই ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে।