মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট গ্রহন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ রোডম্যাপ ঘোষণা করেন ইসির  সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।রোডম্যাপে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত করা ও অংশীজনের সঙ্গে সংলাপসহ ২৪টি কাজকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।ঘোষিত রোডম্যাপে কবে নাগাদ এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে তা উল্লেখ করা হয়নি।তবে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা মুদ্রণের কাজ ১ থেকে ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা হবে। তফসিল ঘোষণার পরপরই সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য মুদ্রিত বা সিডিতে ধারণকৃত ভোটার তালিকা সরবরাহের প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ৬ ডিসেম্বর বা তার পরে  নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। এ ছাড়া ইসি সচিব বলেছেন, রোজার আগে ভোট এবং ভোটের ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ শুরু করবে ইসি। চলবে এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুধীসমাজ, নারীসমাজের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব,  পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, আহত জুলাই যোদ্ধা—এসব অংশীজন এই সংলাপে অংশ নেবেন। রোডম্যাপে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা (সংশোধন), নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন-১৯৯১ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন-২০০৯—এই পাঁচটি আইনের কাজ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করা হবে।নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিবন্ধন ২২ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত করে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হবে। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের অনুমতি প্রদানে যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করা হবে ১৫ নভেম্বর মধ্যে। এ ছাড়া ১৫ নভেম্বর মধ্যে নির্বাচনী তথ্য প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়, বিটিসিএল, বিটিআরসিসহ বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কম্পানির সঙ্গে সভা করবে ইসি।রোডম্যাপে আরো বলা হয়, নির্বাচনী ম্যানুয়াল, নির্দেশিকা,  পোস্টার ইত্যাদি মুদ্রণ শেষ করা হবে ১৫ সেপ্টেম্বর মধ্যে। যাবতীয় নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ২৯ আগস্ট থেকে ভোট গ্রহণের চার থেকে পাঁচ দিন আগে শেষ করা হবে।

নির্বাচনের সব ধরনের মালপত্র সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম শেষ করা হবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। ব্যবহার স্বচ্ছ ব্যালট বক্স ( ঢাকনা ও লকসহ) পুনরায় পরীক্ষা করে ব্যবহার উপযোগী করা হবে ৩০ নভেম্বর মধ্যে। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাজেটে চূড়ান্ত করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অনুকূলে অর্থ বরাদ্দের জন্য বৈঠক হবে ১৬ থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে। নির্বাচনের জন্য জনবল ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে চায় ইসি। এ ছাড়া ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম সভার সম্ভাব্য সময় ২৫ সেপ্টেম্বর। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, মহাপুলিশ পরিদর্শক, বিজিবির মহাপচািলক, আনসার ও ভিডিবি, র‌্যাব,  কোস্ট গার্ড, ডিজিএফআই, এনএসআই ও এসবিপ্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।  আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অন্যান্য কার্যাবলি গ্রহণ করবে ধাপে ধাপে। নির্বাচনের জন্য আন্ত মন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে ৩১ অক্টোবর। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আইসিটিসংক্রান্ত সব কাজ শেষ করতে চায় কমিশন।সচেতনতামূলক প্রচারকাজ শেষ করার সম্ভাব্য শেষ সময় ৩০ নভেম্বর। এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা, ফলাফল কিভাব প্রকাশ ও প্রচার করা হবে, বেসরকারি ফলাফল প্রচারসংক্রান্ত কার্যক্রম নির্ধারণও এই রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোটের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করার কথাও বলা হয়েছে।তফসিল ঘোষণা ও ভোট কবে হবে এই প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন,  ‘ভোট গ্রহণের ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলেছে আগামী রমজানের আগে ভোট করার জন্য। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু। এটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এভাবে আপনি নির্বাচনের তারিখ বের করতে পারেন।’গণপরিষদ ও গণভোটের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা জাতীয় নির্বাচনের জন্য, সংসদ নির্বাচনের বাইরে আমাদের অন্য কোনো কিছু ভাববার সুযোগ নেই।’

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া : নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণায় জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার বিষয়টিকে বিএনপি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জানিয়ে তিনি বলেন, যথাযথ সময়ে রোডম্যাপটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের দিকে থেকেও একই রকম নির্দেশনা ছিল। তিনি বলেন, ‘এখন রোডম্যাপ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়া হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান জাতীয় স্বার্থ। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন রোডম্যাপেরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আমরা এই রোডম্যাপ ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। নির্বাচন বানচাল হওয়ার বা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাকে গুরুত্ব না দিয়ে বরং এ ধরনের আশঙ্কার জায়গা তৈরির কোনো সুযোগ যাতে সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সব অংশীজনকে ভূমিকা নিতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক বড় দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। তা না হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজনৈতিক দলগুলোই। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক রাখার দায়িত্ব মনিটরিং করার জন্য আন্দোলনকারী সব রাজনৈতিক দল থেকে প্রতিনিধি নিয়ে একটা কমিটি করা দরকার। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের পরিবেশ সংক্রান্ত একটা আচরণবিধি তৈরি করা দরকার। দেশের যেকোনো স্থানে যেকোনো সমস্যা হলে বা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হলে, তা মীমাংসা করার ক্ষেত্রে এই কমিটি ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমরা আহবান জানাই, আন্দোলনকারী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন পরিবেশ, ভোটার তালিকা প্রকাশ ও সংশোধনসহ নির্বাচনসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করুন। নির্বাচনসংক্রান্ত নীতিমালা ও অন্যান্য বিষয়ে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহবান জানাই।নির্বাচনী রোডম্যাপ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গত রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম এ নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশের আগেই সরকার সংস্কার বিষয়ক পর্যাপ্ত অগ্রগতির রোডম্যাপ প্রকাশ করবে। কিন্তু আমরা হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছি অজানা কারণে ঐকমত্য কমিশনের পরবর্তী দফার বৈঠক পেছানো হয়েছে এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয় নির্ধারণ করা হয়নি। জুলাই সনদ চূড়ান্ত না করে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার বিষয় কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত না হয়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ঐকমত্য কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল।’তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মনে করি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য নির্বাচন আয়োজন প্রয়োজন। আমরা কোনোভাবেই নির্বাচনবিরোধী নই। সেদিক থেকে রোডম্যাপ ঘোষণা ইতিবাচক। তবে যত দ্রুত জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি হবে তত দ্রুত নির্বাচনের দিকে যাওয়া যাবে। সনদ বাস্তবায়নের পক্রিয়া চূড়ান্ত না করে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ ভবিষ্যতে সংকট তৈরি করতে পারে। যার দায় সরকারকেই নিতে হবে।’ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘নির্বাচনের রোডম্যাপ দিয়েছেন; ভালো। এখন দ্রততার সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্যই ব্যর্থ হবে। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তা হতে দেবে না।’খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এক বিবৃতিতে বলেছেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই রোডম্যাপ কার্যকর হবে না। এটি কার্যকর করতে হলে আগে জুলাই সনদ ঘোষণা করতে হবে। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সনদ ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এর আইনি ভিত্তি দিতে হবে। তা না হলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com