বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এনবিআরে আন্দোলন থেমে যাওয়ার পর সরকার কথা রাখেনি। সমাধানটা একটু নরমভাবে করা প্রয়োজন ছিল। বারবার বলার চেষ্টা করেছি, এনবিআর কর্মকর্তাদের আস্থায় আনতে হবে। আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটা না থাকলে রাজস্ব আদায়ে সমস্যা তো হতেই পারে। তাঁদের খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হয়। আমরা চাই, সবকিছু শেষ করে দিয়ে তাঁদের মানসিক স্বস্তির জায়গাটা ঠিক করা; যাতে তাঁরা কাজ করতে পারেন।’গত ২২ জুন আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে পাঁচজন উপকর কমিশনারকে বদলির আদেশ দেয় এনবিআর। দক্ষ এই কর্মকর্তাদের কোনো কারণ ছাড়াই বদলি করায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন অন্য কর্মকর্তারা। পরে অনেকে বদলির আদেশ ছিঁড়ে এর প্রতিবাদ জানান। পরবর্তী সময়ে এই অভিযোগে ২৭ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করে এনবিআর। তবে সে সময় বিভিন্ন ভিডিও ও সংবাদের ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কয়েকজন এই বদলির আদেশ না ছিঁড়েও বরখাস্ত হয়েছেন। আন্দোলন চলাকালে দাপ্তরিক কাজে বাধা দেওয়ার কারণ দেখিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ৯ কর্মকর্তাকে। তাঁদের মধ্যে একজন যুগ্ম কমিশনার সে সময়ে লিয়েনে ছিলেন। কয়েকজনের দাবি, আন্দোলনে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁরা স্বেচ্ছায় নিয়েছেন। এর সঙ্গে দাপ্তরিক কাজে বাধা দেওয়ার সম্পর্ক নেই।এরপর বিভিন্ন সময়ে আরো ৬০০ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জুলাই একযোগে ৪২ জন যুগ্ম কর কমিশনার, ১৫ জুলাই ১১ জন কাস্টমস কমিশনার, ৩১ জুলাই ২৪ জন যুগ্ম কমিশনার ও ২৫ জন অতিরিক্ত কমিশনার, ১২ আগস্ট ৮৭ জন সহকারী কমিশনার ও ৭৩ জন উপকমিশনার, ১৩ আগস্ট ১৯ জন কর কমিশনার ও ১০ জন কাস্টমস কমিশনার, ১৪ আগস্ট ৮৪ জন উপকর কমিশনার ও দুই কাস্টমস কমিশনার, ১৮ আগস্ট ১২৯ জন সহকারী কর কমিশনার, ১৯ আগস্ট ৪১ জন অতিরিক্ত কর কমিশনার, ২০ আগস্ট ৫৩ জন সহকারী কর কমিশনারকে বদলি করা হয়।
আগস্টের শুরুর দিকে গ্রেড-৩ থেকে গ্রেড-২ পদে পদোন্নতি পান একজন সদস্য। তদবির করে এবং আন্দোলনের বিপক্ষের শক্তি প্রমাণ করে অনেকে বাগিয়ে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পদ ও বদলি।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, নিজেদের পক্ষের মনে করা হলে ভালো ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হচ্ছে। বিপক্ষের মনে করা হলেই পাঠানো হচ্ছে ঢাকার বাইরে। বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রকল্পেও বদলি করা হচ্ছে। অনিয়মের দায়ে শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তারাও পাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যোগ্য ব্যক্তিরা মূল্যায়িত না হওয়ার এই চর্চার অবসান চান তাঁরা।আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আতঙ্কে থাকার কোনো কারণ নেই। কাল সকালবেলায়ও আমি ৬৫০ জন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছি। সেখানে আমি আতঙ্কগ্রস্ত না হতে বলেছি। কেউ আতঙ্ক ছড়ালে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে মেসেজ দিতে বলেছি। কোনো তালিকা করা হচ্ছে না, কিছু হবে না।’এতে আতঙ্ক কাটবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তো তাঁদের ব্যাপার। আমি তো কোনো আতঙ্ক ছড়াচ্ছি না। আমি চাই, সবাই তাঁদের সক্ষমতা অনুযায়ী পুরোপুরি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন।’এরপর গতকাল বুধবারও আয়কর বিভাগের ২২৫ জন কর পরিদর্শককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। এনবিআরের কর প্রশাসন-২ শাখার দ্বিতীয় সচিব মো. আনিসুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।