বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছে পাকিস্তান। গত রবিবার রাতে বাংলাদেশ সফর শেষে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই সফর পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করবে, আরো সফর বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়বে।’ইসহাক দার লিখেছেন, সপ্তাহান্তে তিনি বাংলাদেশে ৩৬ ঘণ্টার একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ সফর শেষ করেছেন।সফরে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিনসহ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা, বুদ্ধিজীবী, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ, নাগরিকসমাজ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করেছেন।পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ইসহাক দার লিখেছেন, দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় উভয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পূর্ণ মিল ছিল।আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন। আলোচনায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়, বিশেষ করে সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি ছিল।ইসহাক দার গত রবিবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দাবি করেছিলেন, ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু দুবার সমাধান হয়েছে। তবে আলাদা ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আমি অবশ্যই একমত না।বৈঠকের দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জোরালো ভিত্তি প্রতিষ্ঠা ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ১৯৭১ সালে ‘জেনোসাইডের’ জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা, অবিভাজিত সম্পদ বণ্টন, ১৯৭০ সালে বন্যাদুর্গতদের জন্য ত্রাণ সহায়তা স্থানান্তর এবং আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসনের ঐতিহাসিক দাবিগুলো দ্রুত সুরাহা করার আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ।এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসহাক দারের ঢাকা সফর ও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে তাতে স্থান পায় ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অতীতে বিভিন্ন সময় পাকিস্তান ১৯৭১ সালের ইস্যু সুরাহা হয়ে গেছে বলে যে দাবি করে আসছিল, এবারের সফরেও তার ধারাবাহিকতা ছিল।








