মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পাকিস্তানের মন্ত্রীর দাবির সঙ্গে এক মত নয় প্রধান উপদেষ্টার

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু দুইবার সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকায় একটি হোটেলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন পরে আলাদা এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আমি অবশ্যই একমত নই।’

পািকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানুষে মানুষে যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা এবং মানবিক সহায়তাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করা, ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গাসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, গঠনমূলক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। সেখানে দুই দেশেরই বিদ্যমান শুভেচ্ছা ও আন্তরিকতার প্রতিফলন ঘটেছে।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জোরালো ভিত্তি প্রতিষ্ঠা ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ১৯৭১ সালে ‘জেনোসাইডের’ জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা, অবিভাজিত সম্পদ বণ্টন, ১৯৭০ সালে  বন্যাদুর্গতদের জন্য ত্রাণ সহায়তা স্থানান্তর এবং আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসনের দ্রুত সুরাহা করার আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ।বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একটি চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিটি দুই দেশের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা বিলোপ বিষয়ে। স্বাক্ষরিত এমওইউগুলো হচ্ছে দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, সংস্কৃতি বিনিময়, দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, দুই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সঙ্গে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইপিআরআই) মধ্যে সহযোগিতা। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী  ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন।

’সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায় বাংলাদেশ : এদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একমত হয়েছে। উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। ১২-১৩ বছর পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘৫৪ বছরের সমস্যা এখানে বসে আমরা এক ঘণ্টায় সমাধান করে ফেলতে পারব; এটা নিশ্চয়ই কেউ আশা করবেন না। আমরা পরস্পরের অবস্থান তুলে ধরেছি।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আপনাদের এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, একটি বিষয়ে শুধু কথা হয়েছে, যেটাকে খানিকটা অগ্রগতি হিসেবে ধরে নিতে পারেন। আমরা তিনটি বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছি। দুই পক্ষ একটি বিষয় ঠিক করেছি, যেটা আমাদের সমাধান করতে হবে, সেটি হলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যাতে খুব ‘স্মুথলি’ এগোতে পারি। এ জন্য এগুলো পেছনে ফেলতে হবে।’পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দুই পক্ষ এ নিয়ে সম্মত হয়েছে। আমরা এ নিয়ে কথা বলব এবং চেষ্টা করব, এই ইস্যুগুলো যেন আগামী দিনে বা কোনো এক পর্যায়ে সমাধান করা যায়।’অমীমাংসিত বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান একই কি না, জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘অমীমাংসিত বিষয়ে দুই দেশ নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। এটি শুধু অগ্রগতি মনে করি, আমরা দুই পক্ষ একমত হয়েছি যে এই বিষয়গুলো আলোচনা করে সমাধান করা প্রয়োজন, যাতে করে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এগুলো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।’পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপদেষ্টার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইসহাক দার বলেছেন একাত্তর ইস্যুতে এর আগে দুইবার সমাধান হয়েছে—১৯৭৪ সালে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং ২০০২ সালে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পারভেজ মোশাররফের দুঃখ প্রকাশ। এ বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত কি না?জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি অবশ্যই একমত না। একমত হলে তো সমস্যাটার সমাধান হয়ে যেত তাদের মতো করে। আমি তো বলেছি, আমরা আমাদের অবস্থান বলেছি, ওনারা ওনাদের অবস্থান বলেছে।’বাংলাদেশের অবস্থান কী জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা চাই হিসাবপত্র হোক, যেটা টাকা-পয়সার ব্যাপার, সমাধান হোক। আমরা চাই, এখানে যে গণহত্যা হয়েছে, সেটার ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করুক, মাফ চাক। আমরা চাই, আটকে পড়া মানুষগুলোকে তারা ফেরত নেবে। আমি বাংলাদেশের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরেছি।’পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সিরিজ বৈঠক হচ্ছে। এটা তৃতীয় দেশ, বিশেষ করে, চীনের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের কারণে কি না জানতে চাইলে তা নাকচ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক গত সরকারের আমলে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছিল। আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই এবং অন্যান্য বন্ধু দেশের সঙ্গেও চাই; এর চেয়ে বেশি কিছু না।’

প্রধান উপদেষ্টা ও পাকিস্তান উপপ্রধানমন্ত্রীর বৈঠক— সার্ক পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করলেন অধ্যাপক ইউনূস : পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার গতকাল ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বৃদ্ধি, তরুণ প্রজন্মের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সার্কের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।উপপ্রধানমন্ত্রী দার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শেহবাজ শরিফের শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়ে শরিফের সঙ্গে অতীতে সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবার আমাদের সাক্ষাতে সার্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন, সার্ক আমাদের উভয়ের কাছেই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।’ইসহাক দার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের দুই অর্থনীতি পরিপূরক। বহু ক্ষেত্রে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’ তিনি দারিদ্র্য বিমোচন ও কমিউনিটি ভিত্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে অধ্যাপক ইউনূসের ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সৌভাগ্যবান যে, আপনার মতো একজন সরকারপ্রধান রয়েছে, আপনি এমন একজন নেতা যিনি বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেন।’

প্রধান উপদেষ্টা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আহবান জানিয়ে বলেন, ‘আমি সার্ককে উৎসাহিত করি এবং পাকিস্তানসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের একটি হিসেবে দেখি।’তিনি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘যখন পাকিস্তানি শিল্পীরা বাংলাদেশে গান পরিবেশন করেন, সবাই তাঁদের প্রশংসা করেন। এই চেতনার ওপরই আমাদের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’১৩ বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসা পাকিস্তানের কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন ইসহাক দার। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে নৌ ও বিমান যোগাযোগ উন্নত করার প্রচেষ্টা চলছে। ইসহাক দার বলেন, ‘অক্টোবরের মধ্যে ফ্লাই জিন্নাহ ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া পিআইএও বেসরকারীকরণের পর ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে।’বৈঠকে উভয় নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাণিজ্য বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়াকে আরো স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ করবে।বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুেফ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ইসহাক দারের সৌজন্য সাক্ষাৎ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবনে যান তিনি। ৪৫ মিনিট ধরে তাঁদের মধ্যে শুভেচ্ছাবিনিময় হয়।

এ সময় বাংলাদেশে নিয়োজিত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ ছয় সদস্যের পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটি সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সাক্ষাৎ শেষে ডা. জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ, তিনি বাসায় আছেন। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে দেখা করে কুশলবিনিময় করেছেন। মূলত ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে তিনি এসেছিলেন। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ম্যাডামের আশু আরোগ্য কামনা করেছেন। তাঁরা একজন আরেকজনের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেছেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পক্ষ থেকে ম্যাডামকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ডা. জাহিদ বলেন, সাক্ষাতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা ফোরাম সার্ককে শক্তিশালী করা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে। তবে দেশের রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা হয়নি।

জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও নেতৃত্বে গুরুত্বারোপ : পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল রবিবার দুপুর ২টায় তিনি আমিরের ঢাকাস্থ বাসভবনে যান এবং তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ফিলিস্তিন সংকট, মুসলিম দেশগুলোর যৌথ নেতৃত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের জানান, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এটা পুরো মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব। আমরা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বৈঠকে জামায়াত আমির বলেন, মুসলিম উম্মাহর জন্য সুসংগঠিত নেতৃত্ব প্রয়োজন, যা সব মুসলিম দেশের ঐক্য ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা দিতে পারে। তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

সাক্ষাতে পাকিস্তান প্রতিনিধিদলে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তারিক বাজওয়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও সার্ক বিষয়ক মহাপরিচালক ইলিয়াস মেহমুদ নিজামী, ঢাকাস্থ হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মদ ওয়াসিফ এবং পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাঙ্গল। জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান চৌধুরী।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com