জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সপ্তম দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আজ (সোমবার) তারিখ ধার্য করা হয়েছে।গতকাল রোববার বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তারিখ ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন মো: শফিউল আলম মাহমুদ এবং মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা চলে। মাঝে মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজের বিরতি দেয়া হয়। ট্রাইব্যুনালে গতকাল তিনজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তারা হলেন- রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অফিস সহকারী মো: গিয়াস উদ্দিন, একই প্রতিষ্ঠানের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: রাজিবুল ইসলাম ও কুষ্টিয়া স্থানীয় সাংবাদিক শরিফুর ইসলাম। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তাদের জেরা করেন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত অ্যাডভোকেট মো: আমির হোসেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান।এর আগে, ২০ আগস্ট ষষ্ঠ দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। ওই দিন সাক্ষ্য দিয়েছেন দু’জন চিকিৎসকসহ চারজন সাক্ষী। তারা হলেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, একই হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ পারভীন, ইবনে সিনা হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা: হাসানুল বান্না ও শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের মা সোনিয়া জামাল। ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
গত ১৮ আগস্ট পঞ্চম দিনের সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ আস-সাবুরের বাবা মো: এনাব নাজেজ জাকি, শহীদ ইমাম হাসান তাইমের ভাই রবিউল আউয়াল ও রাজশাহীর প্রত্যক্ষদর্শী জসিম উদ্দিন। তাদের তিনজনকে জেরা করেন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত অ্যাডভোকেট মো: আমির হোসেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনও আসামি হিসেবে রয়েছেন। তবে নিজের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন তিনি।