সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ইসলাম মানবতা ও শান্তির ধর্ম। সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা অপরিসীম। ইসলাম শান্তি, নিরাপত্তা ও সহানুভূতির ধর্ম। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে শান্তি ও ন্যায়বিচারের পথ প্রদর্শন করে। ইসলামি আদর্শের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ হলো সমাজ ও দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

ইসলাম শান্তি চায়, অশান্তি নয়। বিশ্বময় চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলাম মানবভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে সমগ্র মানবজাতিকে একই পরিবারভুক্ত মনে করে। ইসলামের কথা হচ্ছে, সব মানুষই এক আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি এবং তিনি সমগ্র বিশ্বজগতের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। ইসলামে শান্তি (সালাম) শব্দটি শুধুমাত্র একটি অভিবাদন বা শুভেচ্ছা নয়, বরং এটি একটি জীবনদর্শন। ইসলাম বিশ্বাসীদেরকে পারস্পরিক সহনশীলতা, ক্ষমা, ন্যায়বিচার এবং প্রেম ও ভালোবাসার মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলাম পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। ইসলাম সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য নির্দেশ দেয়। ইসলাম ধর্মে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যাচার, অবিচার ও বৈষম্য পরিহার করার কথা বলা হয়েছে। ইসলাম সহিংসতা ও হানাহানি পরিহার করে শান্তি ও সম্প্রীতির পথ অবলম্বনের কথা বলে।
এক্ষেত্রে ক্ষমা ও সহনশীলতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক। সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও নিরাপত্তা বিধানে ন্যায়বিচার ও সুশাসন অপরিহার্য। মানুষ সৎপথে জীবন পারাপার করার জন্য, সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ইসলাম সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছে।পৃথিবীতে নবী ও রাসূলগণের প্রধান দায়িত্ব ছিল আল্লাহর বিধানের আলোকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক এক শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক রাসূলুল্লাহ (স.) সামাজিক ন্যায়বিচারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, সম্পদের সুষম বণ্টন, জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, সমাজের সকলের মাঝে সাম্য প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি কার্যাবলির মাধ্যমে তিনি এক শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর জন্য তিনি শরীয়তের বিধান যেমন কার্যকর করেন, তেমনি সকলকে আখিরাতমুখী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করেন। আখিরাতের কঠিন জবাবদিহিতার ব্যাপারে সকলকে সতর্ক করেন। এভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি এমন এক শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। আধুনিক বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে আমাদের অবশ্যই রাসূলুল্লাহ স.-এর সামাজিক ন্যায়বিচারের দিকে লক্ষ্য করতে হবে এবং এর থেকে শিক্ষা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে মানবরচিত মতবাদের মাধ্যমে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা কখনো সম্ভব না।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলাম প্রথম মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে।
মানবাধিকার বলতে সেই অধিকারকে বোঝায় যা নিয়ে মানুষ জন্মায় এবং যা তাকে বিশিষ্টতা দেয় এবং যা হরণ করলে সে আর মনুষ্যত্ব নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে না। নবী মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আগমনের পর মানুষে মানুষে হানাহানি, কুসংস্কার, জুলুম, অবিচার বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইসলাম সর্বজনীনতা, সহনশীলতা, শান্তি এবং মিলনের ধর্ম । সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও নিরাপত্তা বিধানে ন্যায়বিচার ও সুশাসন অপরিহার্য।সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামের নির্দেশনা .. আপস- নিষ্পত্তি করে দেওয়া, জুলুম-অত্যাচার না করা ও ক্ষমা করা। আপস-নিষ্পত্তি সমাজে শান্তি সৃষ্টি করে; অত্যাচার সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। ইসলাম ধর্ম হচ্ছে শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। ইসলামের সুমহান শিক্ষা হচ্ছে, প্রতিশোধ গ্রহণ না করে ক্ষমা করা এবং মানুষের প্রতি সহনশীল হওয়া। এ কথা ঠিক যে, সহনশীলতা হচ্ছে- ইসলামের একটি মৌলিক নীতি। তবে ইসলাম ধর্মে অন্যায়, অবিচার,বিজয় এবং স্বাধীনতা মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রের জন্য এক বিশেষ নেয়ামত। ইসলাম চায় সকল মানুষ যেনো শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে। ইসলাম আমাদেরকে এই শিক্ষাই দেয়, আমরা যেনো আমাদের ভূখ- তথা মাতৃভূমিকে অত্যধিক ভালোবাসি।

সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইসলামে কোনো শ্রেনী বৈষম্য নেই। উঁচু-নীচু, বিশেষ-অবিশেষের নামে কোনো অসমতা ও শ্রেণীবিভেদও সমর্থন করে না। আর এ কারণেই ধর্ম হিসেবে একমাত্র ইসলাম জাতভেদ প্রথাকে অস্বীকার করে। ইসলাম একটি শান্তিপ্রিয় ধর্ম এবং এর শিক্ষা অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের। ইসলামের শিক্ষাগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো সমাজ ও দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com