নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বড়দিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ভবনটি দীর্ঘদিন আগেই ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে গেছে। জায়গায় জায়গায় ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। কোথাও পিলারের, আবার কোথাও বিমের অংশ ভেঙে বেরিয়ে পড়েছে ভেতরের রড।
সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদে জমে থাকা পানি চুইয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষে। এতে ভিজে যাচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ তাদের বই-খাতা, চেয়ার-টেবিল। অথচ এই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই বিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীরা ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। শ্রেণিকক্ষে বসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকে কখন যেন তাদের মাথার ওপর থেকে কিছু ভেঙে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ভবনের তিনটি কক্ষের একই অবস্থা। ৬ষ্ঠ শ্রেণির কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, কিছু সময় আগে বৃষ্টির কারণে ছাদের পানি বেঞ্চের ওপর পড়ছে। অনবরত বৃষ্টির পানি পড়ায় মেঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। সেখানে কোনো শিক্ষার্থী নেই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন জানান- একটু আগে বৃষ্টি হয়েছে। এখনও পানি পড়ছে, তাই শিক্ষার্থীদের অন্য কক্ষে নিয়ে গেছি।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনির্বাণ দাস বলেন, আমাদের এই ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো ভবনটির ছাদ দিয়ে জল পড়ে। ফলে আমরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারি না।
পলি খানম নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়Ñ কয়েকদিন আগে ছাদের প্লাস্টার ভেঙ্গে আমাদের ক্লাসের মধ্যে পড়েছিল। ভাগ্যিস কেউ জখম হয়নি। বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়।
সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান- ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে বৃষ্টি হলে ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাসে বসতে পারে না। ক্লাস করানোও সম্ভব হয় না। কখনো কখনো ৩-৪ বিষয়ে ক্লাস হওয়ার পর বাধ্য হয়ে ছুটি দিয়ে দিতে হয়। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রিয়াদ জানান- বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে লিখিত আবেদন দিতে বলা হয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গেও কথা হয়েছে। অবিলম্বে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।