নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বের সরকারই সঙ্কট সমাধানের পথ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই যে সমস্যা-সঙ্কট এটা সমাধানের পথ কী? এটা সিস্টেমের ওপর নির্ভর করবে। যদি একটা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন করতে পারি, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারি, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যদি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পার্লামেন্ট গঠন করতে পারি তাহলে সেখানে জনগণের কাছে জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা তৈরি হবে। সেটা হলে আপাতত একটা ভালো পথ বের হবে যেখানে গিয়ে হয়তবা কিছুটা সমস্যার সমাধান করতে পারবো।
গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জ্বল হোসেন মানিক মিয়া হলে অপর্ণা আলোক সংঘ সংগঠনের উদ্যোগে ‘সামাজিক সুরক্ষা কতটা সুরক্ষিত?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সচিবালয়ে উপদেষ্টারা অসহায় উল্লেখ করে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা শেষ করে দিয়েছে, স্বাস্থ্য শেষ হয়ে গেছে, এগুলোকে আবার নতুন করে গড়ে তোলার জন্য মানুষ লাগবে। সেই মানুষগুলো তৈরি করতে হবে।তিনি বলেন, আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আপনি সচিবালয়ে যাবেন, সেখানে গেলে ওই যে আমলারা বসে আছেন, তারাই সবকিছু নির্ধারণ করেন। আমাদের উপদেষ্টা যারা দায়িত্ব পালন করছেন এখন, অনেক ক্ষেত্রেই তারা অসহায়। তারপরও আমরা আশা করি যে, তারা (উপদেষ্টারা) এতদিন যে চেষ্টা করেছেন, সে চেষ্টাটা নিয়ে সংস্কারের যেসব কমিশনগুলো আছে আমরা সবাই মিলে একটা শুরু করতে পারি, যে শুরুটা দিয়ে আমরা একটা ভবিষ্যৎ বৈষম্যহীন বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গ্রামের একজন স্কুল শিক্ষকের সমস্যার সমাধান করতে হলে তাকে ঢাকায় আসতে হয়। কেনো? যেটার প্রয়োজন নেই, জেলাতেই যথেষ্ট। কিন্তু ওই যে সিস্টেম। ওই সিস্টেমে যদি সেন্ট্রালে না আসে তাহলে ঘুষটা আসবে কোত্থেকে। এটাই বাস্তবতা। শুনতে খারাপ লাগবে বাট দ্যাটস দ্যা ট্রুথ।
তিনি বলেন, ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক নিয়োগ, স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ, নার্সদের নিয়োগ হয় ঘুষ দিয়ে। তাহলে যেই ব্যবস্থাতে অনিয়ম চলতে থাকে, বৈষম্য চলতে থাকে সেখানে রাতারাতি কিছু করে ফেলতে পারবে না, এটা খুব কঠিন। আমাদেরকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে যেতে এমন সিস্টেমের মধ্যে যেতে হবে যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অন্তত মিনিমাম যে ন্যায় বিচার জনগণের জন্য সেই ন্যায় বিচারটা নিশ্চিত করবেন।মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের আমাদের শিক্ষক ড. আবু মাহমুদ বলতেন, তুমি যদি বেগুন গাছ লাগাও সেখান থেকে তো তুমি কমলালেবু আশা করতে পারো না। তো আমরা লাগাবো বেগুন গাছ আর আশা করব আপনার কমলালেবু সেটা তো হয় না। আমাদের এই সিস্টেমটাইকে পরিবর্তন করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কিছু হবে না, জোড়াতালি দিয়েও কিছু হবে না। একটা সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য লক্ষ্য, চিন্তাভাবনা নিয়ে এগুতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের পর যখনই আমরা নতুন করে রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন, সংস্কার শুরু করেছি, তখনই তো বিবাদ-তর্ক-বিতর্ক শুরু করেছি। গণতন্ত্রে তর্ক-বিতর্ক হবেই কিন্তু এমন জায়গায় যাচ্ছি মাঝে মাঝে যে জায়গায় গিয়ে হতাশা এসে যায়।তিনি বলেন, আমি হতাশাবাদী হতে চাই না। আমি যখন একটা প্রগতিবাদী সমাজ দেখতে চাই, মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থা চাই, জনগণের যে বৈষম্য কমিয়ে আনতে চাই, তার আর্থিক বৈশিষ্ট্য-বৈষম্য কমিয়ে আনতে চাই, তখন যদি আমি দেখি যে, সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে, ভিন্ন চিন্তা করা হচ্ছে এবং সেটাকে ডাইভার্ট করার চেষ্টা করছে মানুষের চিন্তাভাবনাগুলোকে। একটা উগ্রবাদে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে তখন তো হতাশা আসবেই।মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে অর্থাৎ দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের ভবিষ্যৎ তৈরি করার জন্য কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ পারে- ’৬৯ এ পেরেছে, ’৭০ এ পেরেছে, ’৭১ পেরেছে। না পারার কোনো কারণ নেই। আর সবশেষে যেটা (’২৪) পেরেছে এটা তো অভাবনীয়, অসাধারণ। সেই ক্ষেত্রে আমার মনে হয় যে, আমরা পারবো। আমাদেরকে সামনের দিকে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে। এখন আমাদের যে সুযোগটা এসেছে তাকে যদি কাজে লাগাতে পারি, কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারি তাহলে হয়তবা আমাদের অভ্যুত্থানের কিছুটা মূল্যায়িত হবে এবং ছেলেরা যে প্রাণ দিলে তারও কিছু মূল্যায়ন হবে।সংগঠনের প্রধান বীথিকা বিনতে হোসাইনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, সাবেক সাংসদ রেহানা আক্তার রানু, অর্থনীতিবিদ এম মাসরুর রিয়াজসহ স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নির্বাচিত প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।