মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

দেশেই তৈরি হচ্ছে লিফট

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

লিফট ব্যবহারে আমদানিনির্ভরতা কমছে। বর্তমানে বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের লিফট। বাংলাদেশে ব্যবহার হওয়া লিফটের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশই এখনো আমদানি করা। তবে দেশীয় কম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড মেনে উন্নতমানের লিফট সরবরাহ করতে শুরু করায় বিদেশ থেকে আমদানি হওয়ার প্রবণতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

দেশে লিফট উৎপাদন ছাড়াও বর্তমানে প্রোপার্টি লিফটস বিশ্বসেরা কোনে, ম্যাকপুয়ার্সা ও এসআরএইচ লিফটের বাংলাদেশে একমাত্র পরিবেশক। দীর্ঘ ৩৬ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার ফলে এই খাতের খুঁটিনাটি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণ ধারণা রয়েছে।গতকাল শনিবার সরেজমিনে নরসিংদীর ডাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রোপার্টি লিফট কারখানা ঘুরে ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশেই বিশ্বমানের লিফট উৎপাদনের লক্ষ্যে উন্নত প্রযুক্তির মোটর ও কন্ট্রোল প্যানেলে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মান পরীক্ষায় জন্য উন্নতমানের ল্যাব, আধুনিক টেস্টিং ফ্যাসিলিটিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কারখানা গড়ে তোলে প্রোপার্টি লিফট। এতে একদিকে যেমন মান ও নিরাপত্তার দিক থেকেও গ্লোবাল ব্র্যান্ডের সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিচ্ছে, অন্যদিকে দেশে লিফট তৈরিতে মূল্য সংযোজন বেড়ে যাওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানি করা লিফটের চেয়ে দামে সাশ্রয়ী হচ্ছে। কারখানাটিতে বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ১০০ ইউনিট লিফট উৎপাদন করা হচ্ছে।

আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আর এন পাল বলেন, ‘আমাদের প্রোপার্টি লিফটের কোয়ালিটি নিয়ে কোনো সংশয়ের সুযোগ নেই। কারণ আমরা এখন রপ্তানির দিকে যাচ্ছি। যেকোনো আমদানি লিফটের তুলনায় সাশ্রয়ী দামে লিফট বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের বাজারে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার পিস লিফটের চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে প্রোপার্টি লিফটস সরবরাহ করছে দুই হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ লিফট।’তিনি বলেন, ‘একসময় লিফট বলতে কেবল আমদানীকৃত লিফটকেই বোঝানো হতো। আমদানীকৃত লিফটের দাম যেমন বেশি, তেমনি পুরনো ভবনে কাস্টমাইজড লিফট বসানোর সুযোগও সীমিত ছিল। অনেকে চারতলা বাড়ি কিংবা তিনতলা একটি মার্কেটের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে লিফট চান। আমরা সেই বাস্তবতায় দেশে লিফট তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিই। আমাদের বিশ্বাস ছিল, দেশে মূল্য সংযোজন বাড়িয়ে লিফট উৎপাদন করতে পারলে দাম কমে আসবে। এর ফলে লিফটের ব্যবহারও অনেকাংশে বেড়ে যাবে। এখন আমরা ভোক্তার পছন্দের কাস্টমাইজড লিফট সহজে সরবরাহ করতে পারছি। এটি সম্ভব হয়েছে দেশে কারখানা হওয়ার ফলে।’

প্রোপার্টি লিফটসের চিফ অপারেটিং অফিসার মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রোপার্টি লিফটস বর্তমানে ৪০ শতাংশের বেশি মূল্য সংযোজন করছে। মৌলিক কাঁচামাল আমদানি হলেও ফ্যাব্রিকেশন ও অন্যান্য কাজের ৮০ শতাংশ দেশেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ৮০ শতাংশ কম্পোনেন্ট স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রোপার্টি লিফটসের কারখানায় একটি আধুনিক টেস্টিং টাওয়ার রয়েছে, যেখানে প্রতি সেকেন্ডে তিন মিটার গতিতে লিফট পরীক্ষা করা যায়। এটি মান নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখছে।’তিনি বলেন, ‘বাজারে এখন প্যাসেঞ্জার লিফট, কার্গো লিফট, হাসপাতাল লিফট, হোম লিফট, ক্যাপসুল লিফট, হাইড্রোলিক লিফট ও সিজার লিফট পাওয়া যায়। দেশের বাজারে ৩০০ থেকে ১০ হাজার কেজি ধারণক্ষমতার লিফট বিক্রি হয়। ধারণক্ষমতা ও ফিচারের ওপর ভিত্তি করে এসব লিফটের দাম ১৫ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত। আমদানীকৃত এসব লিফটের তুলনায় দেশে উৎপাদিত লিফটের দাম পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা কম। তবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা প্যাসেঞ্জার ও কার্গো লিফটের।’

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, লিফটশিল্পে সরকারের নীতি সহায়তা জরুরি। দেশি পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ না দিলে বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হবে। সে কারণে সরকারের উচিত বিভিন্ন প্রকল্পে দেশে তৈরি লিফট ব্যবহারে উৎসাহিত করা। মানুষের মাঝে এখনো ভুল ধারণা আছে যে লিফট একটি জটিল পণ্য, যা বাংলাদেশি কোম্পানির পক্ষে উৎপাদন সম্ভব নয়। কিন্তু আরএফএল বহু জটিল পণ্য তৈরি করে আসছে, লিফটের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com