সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শিশুকাব্য চর্চায় ইসলামী দৃষ্টিকোণ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

শিশুকাব্য শিশুমনে আনন্দ দানের পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের এক বিশাল দিগন্ত। এটি শিশুর রুচিবোধকে জাগ্রত করে। সৌন্দর্য অনুধাবনের চোখ খুলে দেয়। শিশুরা কাব্যিক ছন্দ, কল্পনার বিস্তার ও সৌন্দর্যবোধের মাধ্যমে উপলব্ধি করে সৃষ্টিজগতের অপার বৈচিত্র্যকে। শিশুদের আবেগিক এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের মাঝে সৌন্দর্যবোধ, ভাষাজ্ঞান ও নৈতিক গুণাবলি বিস্তারের চেষ্টা করা সময়ের দাবি।

ইসলামের পূর্বে এবং পরে শিশুকাব্যের প্রতি আরবদের বিশেষ মনোযোগ লক্ষ্য করা যায়। জন্মের পর শিশুর কানে তারা কাব্যিক সুর তুলেছেন ঘুমপাড়ানোর জন্য, কখনোবা স্নেহভরে খুশি করার জন্য। আবার কখনো শিশুকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ আশা-আকাঙ্খা ব্যক্ত করণে রচনা করেন সুমধুর কাব্য। ইসলাম আগমনের পরও শিশুর প্রতি এই ধারা অব্যাহত থাকে। মুসলিম প-িতগণ শিশুদের মনোজগৎ বিকাশে শিশুকাব্যের গুরুত্ব অনুধাবন করেন। ভবিষ্যত প্রজন্ম শিশুদেরকে কাব্য শেখানোর পরামর্শ দিয়ে বলতেন “তোমরা শিশুদের নির্মল কবিতা, ভালো কথাও বিশুদ্ধ হাদীস এবং পারিবারিক সম্পর্ক বিষয়ক জ্ঞানের কথা শিখাও।”এই নির্দেশনা থেকেই বোঝা যায় যে, মুসলিম ঐতিহ্যে শিশুকাল থেকেই কবিতার মাধ্যমে নৈতিকতা ও পারিবারিক বন্ধনের শিক্ষা দেওয়ার গুরুত্ব কতটা গভীর। মুসলিম মনীষীগণ শিশুদেরকে কবিতা শিখানো এবং শিশুদের জন্য শিশুপোযোগী কবিতা নির্বাচন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। যাতে শিশুর মনোজগতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং শিশুরা যাতে মানবিক ও নৈতিকমানে উন্নত মানব সন্তানে পরিণত হতে পারে।

শিশুদের জন্য কবিতা লিখা মানে ছন্দে ছন্দে তথ্য দেয়া নয়। বরং শিশুদের মানসিক স্তর ও আগ্রহকে বিবেচনায় রেখে কবিতার বিষয়, ভাষা ও রচনাশৈলী নির্ধারণ করতে হয়। তাদের ঈমান, আকীদাহ, নৈতিকতা, আচরণ ও চিন্তার উন্নতির দিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়বস্তু চয়ন করা উচিত। প্রকৃতি, পরিবার, সমাজ ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে সহায়ক এমন কবিতা শিশুর সামনে উপস্থাপন করতে হবে। যেনো সে বুঝতে পারে গাছ-গাছালী, পশু-পাখি, চন্দ্র-সূর্য, নদী-নালা, জীব-জন্তু, এমনকি জড় জগতও আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে এক অমূল্য নিয়ামত।

শিশুর বয়সভেদে কবিতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হয়। কারণ, শিশুকাল-ই তার চারিত্রিক ও মানসিক ভিত্তি গঠনের মোক্ষম সময়। কাজেই শিশুকাব্যে ব্যবহৃত শব্দ ও বাক্য যেনো শিশুমনে প্রভাব ফেলতে পারে। একজন সচেতন শিশু সাহিত্যিককে এদিকে খেয়াল রাখতে হয়। রচনাশৈলীর দিক থেকেও শিশুর উপলব্ধি ও রুচির উপযোগী হওয়া আবশ্যক, যেনো সে কবিতার সঙ্গে আবেগ ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সংযুক্ত হতে পারে। আর ভাষা? অবশ্যই শুদ্ধ হতে হবে এই ভাষাই যেনো শিশুকে আনন্দ দেয়, নতুন জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হয় এবং ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে। সর্বোপরি সমাজ-সংসারে যেনো তাকে মার্জিত ও সংস্কৃতিবান মানব সন্তান হিসেবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে এদিকে কবিকে মনোযোগী হতে হয়।

শিশুর জগত বোঝার আগে তাকে নিয়ে কবিতা লিখা অর্থহীন। কবিকে বুঝতে হবে তার অনুভব, চিন্তা ও স্বভাব, যাতে করে শব্দচয়ন, ভাবধারা ও ছন্দের মাধ্যমে সহজেই শিশুর হৃদয়ে প্রবেশ করতে পারেন। কিছু কিছু সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ কেবল কবিতার ছন্দ ও শৈল্পিক দিকের প্রতি নজর দিয়ে থাকেন। শিক্ষা বা ধর্মীয় দিকটি অবহেলা করেন। এমনকি কেউ কেউ সাহিত্যে ধর্মীয় বা নৈতিক দিককে ‘উপদেশ’ বলে অবজ্ঞা করেন। তারা মনে করেন, উপদেশমূলক সাহিত্য সমাজের পশ্চাদপদতার প্রতীক।দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিশ্বব্যাপী শিক্ষাব্যবস্থা ও সাহিত্যচর্চা পাশ্চাত্য চিন্তা ও দর্শনের অন্ধ অনুকরণে গড়ে উঠেছে যা ধর্মকে জীবনের মূলস্রোত থেকে ছিটকে ফেলতে চায়। তাদের দৃষ্টিতে উন্নত সমাজ মানে ধর্মহীন, তথাকথিত ‘ফ্রি-থিংকার’ সমাজ। তারা গানে, সুরে, চিত্রে ও নৃত্যে শিশুদের ‘আত্মিক উন্নতি’ দেখতে পান! অথচ ইসলামী সাহিত্য শিশুকে গড়ে তোলে আল্লাহভীরু, সচ্চরিত্রবান ও জ্ঞানপিপাসু প্রকৃত মানুষ হিসেবে, এটা তারা মানতেই চান না।

তবে আজকের ‘ইসলামী পুনর্জাগরণ’ আমাদের এই বিকৃত প্রবণতা থেকে মুক্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মানুষ বুঝতে পারছে পশ্চিমা চিন্তার ধোঁকাবাজি এবং ‘শিল্প’ ও ‘সাহিত্য’র নামে তারা বিশ্বাসহীনতা, অশ্লীলতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রচার করছে। তাই শিশুদের জন্য ইসলামী ভাবধারার সাহিত্য বিশেষত ইসলামী শিশুকাব্যের চর্চা অত্যন্ত জরুরি। অতীতে মুসলিম কবিগণ যেভাবে ইসলামী ভাবধারায় শিশুকাব্য রচনার পথ দেখিয়েছেন, তেমনিভাবে আজকের কবিদের দায়িত্ব সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। শিশুদেরকে ইসলামী ভাবধারার শিশুকাব্য উপহার দেয়া।ইসলামী সাহিত্যের পুরোধা ব্যক্তিত্ব নাজীব আল কিলানীর মতে, শিশুকাব্য হওয়া উচিত ইসলামী মূল্যবোধ ও বিশ্বাসভিত্তিক চিন্তার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। এটি যেনো দায়িত্বের এক দীপ্ত শিখা হয়ে ওঠে যা মুসলিম শিশুর কল্যাণে নিবেদিত।সেই শিশুর জন্য, যাকে বিভ্রান্তির শক্তি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে চায়, আর যাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কুমন্ত্রণা ও অপপ্রচারের তীক্ষè তীর। শিশুসাহিত্যের কবি হবেন একজন দায়িত্বশীল প্রহরী ও আমানতদার। তার উচিত সে কী লিখছে, তা’ গভীরভাবে বোঝা এবং তা’কী প্রভাব ফেলবে এই উপলব্ধি নিয়ে কলম ধরা। কারণ, তার কবিতা শুধুমাত্র আজকের প্রজন্মের জন্য নয়, বরং আগামী দিনের শিশুরও মনন গড়বে; এবং সেসব শিশুই একদিন এই উম্মাহকে ইসলামী সভ্যতার পুনর্জাগরণে নেতৃত্ব দেবে।

অতএব আসুন, আমরা শিশুসাহিত্যের জনপ্রিয় শাখা শিশুকাব্যকে ফিরিয়ে নিই তার মূল উৎসে।
যেনো আমাদের শিশুরা বেড়ে ওঠে সুসাহিত্যের আলোতে। সেই আলো যেনো হয় ঈমানের, হিদায়াতের এবং নৈতিকতার আলোয় দীপ্তিময়।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com