মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বিনিয়োগে মন্ত্রীদের বৈঠক

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য বাড়াতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে যেন আমরা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য আমদানি করতে পারি, সে লক্ষ্যেই এ কমিশন গঠন করা হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।তিনি জানান, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোসহ বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।খাদ্য ও কৃষি পণ্য আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি কিছু মধ্যবর্তী পণ্য যৌথভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আনারস রপ্তানির বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে, আর পাকিস্তানের সহযোগিতায় দেশে চিনির উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানকে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড আমদানির ওপর আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছি। তারা বিষয়টি বিবেচনায় নেবে বলে জানিয়েছে।আমরা পাকিস্তানের বাজারে এক কোটি কেজি চা শুল্কমুক্তভাবে রপ্তানির প্রস্তাবও দিয়েছি।’তিনি জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে রয়েছে জয়েন্ট ট্রেড কমিশনের পুনর্গঠন, কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন গঠন। যদিও আগে থেকেই জয়েন্ট ট্রেড কমিশন ছিল, তবে কার্যক্রম ছিল সীমিত।এখন তা আরো সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হবে।পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ালে ভারতের সঙ্গে বৈরিতা বাড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার দায়িত্ব দেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানো। পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে জিজ্ঞেস করুন। এটা আমার কনসার্ন নয়। আমরা দেশের স্বার্থে কাজ করছি।মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানের পাওনা বা দেনা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা বাণিজ্যিক আলোচনার বিষয় নয় এবং এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’বাংলাদেশ পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সবার দিকেই ঝুঁকছি—পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত; যেখানে দেশের স্বার্থ আছে, সেখানেই ঝুঁকছি। ভারতের কাছ থেকেও তো আমরা পেঁয়াজ আনছি।’

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রায় দেড় দশক ধরে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য কার্যত সীমিত ছিল। তারা এখন আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমরাও বাণিজ্য বাড়াতে কোনো অসুবিধা দেখছি না। দুই দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে এগোতে চাই।’বাণিজ্যসচিব আরো বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে আমরা বেশি আমদানি করি, কিন্তু রপ্তানি করি তুলনামূলকভাবে কম। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করা দরকার। পাকিস্তানে যেসব পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব বিষয়ে উপদেষ্টা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’সচিব জানান, খাদ্য, পাথরসহ বেশ কিছু পণ্য প্রতিযোগিতামূলক দামে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা সম্ভব। তবে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৭৮৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। একই সময়ে রপ্তানি করেছে মাত্র ৭৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য।বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, বাংলাদেশে পাকিস্তান হাইকমিশনের রাজনৈতিক কাউন্সেলর কামরান ধাংগাল, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রতিনিধি জাইন আজিজ এবং বাণিজ্য সহকারী ওয়াকাস ইয়াসিন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com