সম্রাট বলল, ‘তুমি বুদ্ধিমান লোক।আমার প্রস্তাব মেনে নিলে তুমি হবে আমার ক্ষমতার অংশীদার, আর জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পাবে আমার কন্যাকে।’আবদুল্লাহ (রা.) মৃদু হেসে বলেন, ‘আল্লাহর কসম! শুধু আপনার সাম্রাজ্য নয়, এর সঙ্গে আরবদের সব অধিকারও যদি আমাকে দেওয়া হয়, তবু এক মুহূর্তের জন্য আমি মুহাম্মদ (সা.)-এর দ্বিন ত্যাগ করব না।’
আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘আপনার ইচ্ছা।
সম্রাট জিজ্ঞাসা করল, ‘তাহলে কাঁদছ কেন?’
আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘মৃত্যুর ভয়ে নয়, কাঁদছি এ জন্য যে আজ বুঝি আমি দ্বিনের জন্য একটি প্রাণই বিসর্জন দেব। যদি আমার দেহের লোমের সংখ্যার সমান প্রাণ থাকত এবং তা দ্বিনের জন্য বিসর্জন দিতে পারতাম!’
সম্রাট বলল, ‘তোমাকে আমি এমনিই ছাড়তে পারি না। অন্তত আমার কপালে একটি চুমু দাও, তবেই মুক্তি দেব।’
আবদুল্লাহ (রা.) বললেন, ‘না। তবে যদি সব মুসলিম বন্দিকে মুক্তি দাও, তাহলে রাজি।’
সম্রাট রাজি হলো। তখন তিনি এগিয়ে গিয়ে সম্রাটের কপালে চুমু খেলেন।
ফলে ৮০ জন মুসলিম বন্দিকে আবদুল্লাহ (রা.)-এর হাতে তুলে দিয়ে মুক্তি দেওয়া হলো।
তিনি তাঁদের নিয়ে মদিনায় ফিরে খলিফা উমর (রা.)-এর দরবারে উপস্থিত হলেন এবং সব ঘটনা বর্ণনা করলেন। উমর (রা.) আনন্দিত হয়ে বন্দিদের উদ্দেশে বললেন, ‘তোমাদের উচিত আবদুল্লাহর মাথায় চুমু খাওয়া।’ এই বলে নিজেই সবার আগে তাঁর মাথায় চুমু খেলেন।
(উসদুল গাবাহ, ৩/১০৮-১০৯; মুখতাসার তারিখে দিমাশক, ১২/১০৫-১০৬; হায়াতুস সাহাবা, ১/৩০২; আল-ইসাবাহ, ২/২৯৬-২৯৭; আল-ইস্তিআব; সুয়ারিম মিন হায়াতিস সাহাবা, ১/৫১-৫৬; উসদুল গাবাহ, ৩/১৪৩ সূত্র : আসহাবে রাসুলের জীবনকথা, পৃষ্ঠা-৭৯-৮০)