ফরিদপুরে ফের বাড়তে শুরু করেছে পদ্মার পানি। হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে সদর, সদরপুর, চরভদ্রাসন ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার নদীপাড় ও চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে পদ্মাতীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলের অন্তত ৩৮টি গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে। এতে চার উপজেলার প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে ব্যাপক ভোগান্তির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট। বিশেষ করে গবাদিপশু নিয়ে চরবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের ৫টি ওয়ার্ড, নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডে পানি প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে সদরপুর উপজেলায় নতুন করে পদ্মার পানি ঢুকে পড়েছে নদীতীরবর্তী এলাকা ও নিম্নাঞ্চলে। আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মধুমতী নদীর তীরবর্তী সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদরপুরের দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১১শ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আকোটের চর ইউনিয়নের ছলেনামা গ্রামে অর্ধশতাধিক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। কৃষকরা অপরিপক্ব ফসল ঘরে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে ধান, পাট ও শাকসবজির জমি পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন তারা।
অপরদিকে, আলফাডাঙ্গা উপজেলা মধুমতী নদীর তীরবর্তী সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ছেন। বহু ঘরে ডুকে পড়ছে পানি। প্রচন্ড অভাব দেখা দিয়েছে সুপেয় খাবার পানি। পাকের ঘর, টয়লেট, গোসলখানা, বহু টিউবওয়েল পানিতে ডুবে যাওায় চরম অশান্তির মধ্যে আছে ২১০টি পরিবার। এ বিষয় আলফাডাঙ্গার উপজেলা প্রশাসন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছি থাকবো।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুর কার্যালয়ে অফিস সূত্রটি ইনকিলাবকে জানান, পদ্মার পানি ফরিদপুর নৌবন্দর ঘাট পয়েন্ট, ভাগ্যকুল পয়েন্ট, চরভদ্রাসন পয়েন্ট এবং সদরপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং আগামী কয়েক দিন পানি আরো বাড়তে পারে। ফলে চার উপজেলার নতুন করে কমপক্ষে আরো ২০টি গ্রাম পানির তলে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিন উপজেলার সংশ্লিষ্টরা।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চার উপজেলার ৩৮টি গ্রামের কমপক্ষে দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ছে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।