সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

যুদ্ধ ও অস্ত্র ব্যবসা বন্ধ করতে হবে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

দুর্ভাগ্য, জ্ঞান বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষ সত্ত্বেও বিশ্ব থেকে যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। অতীতে কোনো না কোনো অঞ্চলে যুদ্ধ চলেছে এবং বর্তমানেও চলছে। যুদ্ধে মারা গেছে লাখো নিরাপরাধ মানুষ এবং এখনো প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজারো আবাল বৃদ্ধ বনিতা। যুদ্ধের কারণে সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে লাখো মানুষ। এই যুদ্ধ মানবতার জন্য কখনো কোনো কল্যাণ বয়ে আনেনি এবং ভবিষ্যতেও আনবে না। যুদ্ধ মানে কেবল দুঃখ, কষ্ট আর ধ্বংস। যুদ্ধ হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসার প্রধান হাতিয়ার এবং অস্ত্র ব্যবসায়ীরা অস্ত্র বিক্রির জন্য যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করে। শান্তিবাদী মানুষ চায় যুদ্ধ নামক ধ্বংসযজ্ঞ পৃথিবী থেকে চিরতরে দূর হয়ে যাক। যুদ্ধ বন্ধ হলেই কেবল পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে এবং মানবতা মুক্তি পাবে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। কিছুদিন আগে ভারত-পাকিস্তান এবং ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ হয়েছে। রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক আফগানিস্তানে যুদ্ধ করেছে। একটি যুদ্ধ শেষ না হতেই পৃথিবীতে আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। সব সময় কোনো না কোনো দেশের মাঝে যুদ্ধ চলেছে। বছরের পর বছর ধরে ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে যুদ্ধ চলেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইল গাজায় আগ্রাসন চালাচ্ছে। প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ সাধিত হয় এবং বিরাট সংখ্যক মানুষ মারা যায়। যুদ্ধের ফলে জনগণের জীবনে কষ্টের শেষ নেই। যুদ্ধ বন্ধের পরিবর্তে বৃহৎ রাষ্ট্রসমূহ যুদ্ধরত দেশগুলোর পক্ষ অবলম্বন এবং তাদের অস্ত্র সরবরাহ করে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করে। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা যুদ্ধে এসব দেশ কেবল ধ্বংস হয়েছে। মানুষের বাড়ি ঘর, অফিস আদালত এবং বিভিন্ন অবকাঠামোসহ সব কিছু ধ্বংস হয়েছে। মানুষ নিহত এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচতে নিজ দেশ, বাড়িঘর, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সবই ছেড়ে অন্য দেশে নিঃস্ব হয়ে উদ্বাস্তুর জীবন যাপন করছে অগনিত মানুষ। বর্তমানে বিশ্বে উদ্বাস্তুর সংখ্যা ছয় কোটির বেশি। যুদ্ধে শিশু, মহিলা এবং বয়স্ক মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়। যুদ্ধের কারণে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখাও বন্ধ হয়ে যায়। এসবই হচ্ছে যুদ্ধের বিসর্জন। যুদ্ধে ক্ষতি ছাড়া কিছুই অর্জিত হয় না।বৃহৎ দেশসমূহের অস্ত্র বিক্রিই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবার প্রকৃত কারণ। যুদ্ধ বন্ধ হলে অস্ত্র ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়, তাই অস্ত্র ব্যবসায়ীরা যুদ্ধ জিঁইয়ে রাখে। যুদ্ধরত দেশসমূহ যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, অস্ত্র বিক্রেতা দেশসমূহ হয় ব্যাপক লাভবান। যুদ্ধ হচ্ছে অস্ত্র বিক্রি এবং অস্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষার প্রধান ক্ষেত্র। যুদ্ধ অস্ত্র নির্মাতাদের কাছে অস্ত্র বিক্রির মোক্ষম সুযোগ এনে দেয়। তারা এ সুযোগে মজুদ থাকা অস্ত্রসমূহ চড়া দামে বিক্রি করে এবং নতুন করে অস্ত্র তৈরি বাড়ায়। অস্ত্র নির্মাতারা যুদ্ধরত পক্ষগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করে এবং সেই অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ চলতেই থাকে। ফলে যুদ্ধ সহজেই বন্ধ হয় না। এক্ষেত্রে অস্ত্র বিক্রেতাদের মাঝে অলিখিত সমঝোতা থাকে। অস্ত্র নির্মাতা দেশসমূহ বিভিন্ন দেশের কাছে জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে অস্ত্র কেনার মার্কেটিং করে এবং তাদেরকে অস্ত্র ক্রয়ে অনুপ্রাণিত ও বাধ্য করে। যুদ্ধ শেষে যুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশগুলির অবকাঠামো নির্মাণের কাজ আবার অস্ত্র নির্মাতা দেশসমূহই নেয়। এখানেও অস্ত্র নির্মাতা দেশসমূহের জমজমাট ব্যবসা।সুইডেনের গবেষণা সংস্থা ঝঃড়পশযড়সব ওহঃবৎহধঃরড়হধষ চবধপব জবংবধৎপয ওহংঃরঃঁঃব (ঝওচজও) ২০২০-২০২৪ পর্যন্ত পাঁচ বছরে শীর্ষ ১০টি অস্ত্র আমদানিকারক এবং রপ্তানিকারক দেশের নাম প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, এই সময়ে মোট আমদানিকৃত অস্ত্রের মধ্যে ইউক্রেন ৮.৮%, ভারত ৮.৩%, কাতার ৬.৮%, সৌদি আরব ৬.৮%, পাকিস্তান ৪.৬%, জাপান ৩.৯%, অস্ট্রেলিয়া ৩.৫%, মিশর ৩.৩%, যুক্তরাষ্ট্র ৩.১% এবং কুয়েত ২.৯% আমদানি করেছে। মোট রপ্তানিকৃত অস্ত্রের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৪৩%, ফ্রান্স ৯.৬%, রাশিয়া ৭.৮%, চীন ৫.৯%, জার্মানী ৫.৬%, ইতালি ৪.৮%, যুক্তরাজ্য ৩.৬%, ইসরাইল ৩.১%, ¯েপন ৩% এবং দক্ষিণ কোরিয়া ২.২% রপ্তানি করেছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশই সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করে চলেছে এবং প্রতি বছরেই এর পরিমাণ বাড়ছে। ২০২৪ সালে বিশ্বে সামরিক খাতে ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ২৭১৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৯.৪% বেশি। সামরিক খাতে অর্থ ব্যয় করা শীর্ষ ৫টি দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, জার্মানী এবং ভারত। এই ৫টি দেশ ২০২৪ সালে ১৬৩৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা বৈশ্বিক মোট ব্যয়ের ৬০%। তন্মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৯৯৭ বিলিয়ন, চীন ৩১৪ বিলিয়ন, রাশিয়া ১৪৯ বিলিয়ন, জার্মানী ৮৮.৫ বিলিয়ন এবং ভারত ৮৬.১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য ৮১.৮ বিলিয়ন, সৌদি আরব ৮০.৩ বিলিয়ন, ইউক্রেন ৬৪.৭ বিলিয়ন, জাপান ৫৫.৩ বিলিয়ন এবং ইসরাইল ৪৬.৫ বিলিয়নডলার ব্যয় করেছে। ন্যাটোভুক্ত দেশসমূহ ২০২৪ সালে সামরিক খাতে ১৫০৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা বৈশ্বিক ব্যয়ের ৫৫ শতাংশ। এসব অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণেও প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। এটি বিশ্বব্যাপী সামরিক খাতে ব্যয়িত অর্থের খ-চিত্র।বর্ণিত তথ্য থেকে অস্ত্র ব্যবসা সপর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু মানবতার স্বার্থে যুদ্ধ এবং অস্ত্র ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। বিদ্যমান সকল যুদ্ধ এখনই বন্ধ করতে হবে। তার জন্য যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় বসলে যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। তার জন্য সত্যটা মানতে হবে। বর্তমানে ১৯৫টি স্বাধীন রাষ্ট্র রয়েছে, যাদের সবার অবস্থান সমান নয়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে কোনটা অনেক বেশি শক্তিশালী আবার কোনটা একেবারেই দুর্বল। কিন্তু সকল রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সম্মান এবং এর মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। একইভাবে সব দেশের সব মানুষেরই স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। মানুষের সার্বজনীন এই অধিকার জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত। কিন্তু পাঁচটি বৃহৎ দেশের ভেটো ক্ষমতা জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকারকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তাই বিশ্বব্যাপী শান্তির লক্ষ্যে জাতিসংঘে বিদ্যমান ভেটো ক্ষমতা বিলুপ্ত করতে হবে। এ জন্য জাতিসংঘের সংস্কার প্রয়োজন।আইনের দৃষ্টিতে সবার অধিকার সমান এবং তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বৃহৎ রাষ্ট্রসমূহের মাঝে সমঝোতা এবং ঐক্য প্রয়োজন। কোনো ইস্যুতে বৃহৎ রাষ্ট্রসমূহ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করলে কখনোই সমাধান আসবে না। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠাও হবে না। আধিপত্য বিস্তারের জন্য যুদ্ধ নয়, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মানুষের বিরুদ্ধে মানুষের এই যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করতে হবে। আজ ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা এবং রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। মারণাস্ত্র না বানিয়ে, বরং এসব ধ্বংস করতে হবে। পৃথিবীর শতকোটি মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। অস্ত্র নির্মাণে অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ এসব মানুষের জীবন মান উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে। বিভিন্ন দেশের উদ্বাস্তু শিবিরে শরণার্থী হিসেবে বসবাসকারীদের নিজ দেশের নিজ বাসভূমিতে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে হবে। মানবিকতাকে ছড়িয়ে দিতে হবে সবখানে। মানুষের মাঝে হিংসা বিদ্বেষ হানাহানি নয় বরং জাগিয়ে তুলতে হবে ভালবাসা, মমতা এবং সহমর্মিতা।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com