বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর দেয়াল থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবি নামিয়ে ফেলার মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ১৫ আগস্ট এসংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।তবে প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার গতকাল রবিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি সরিয়ে ফেলতে হবে এমন কোনো লিখিত নির্দেশনা কোনো দপ্তর বা মিশনকে দেওয়া হয়নি।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার খবর জানার পরপরই তাঁর ছবি দেয়াল থেকে নামিয়েছিল বিদেশে বাংলাদেশের সব দূতাবাস।লিখিত নির্দেশনা না থাকলেও পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবিও নামিয়ে ফেলে বেশির ভাগ দূতাবাস। এর পরও হাতে গোনা কয়েকটি দূতাবাসে রাষ্ট্রপতির ছবি টাঙানো ছিল। এবার ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির ছবি নামিয়ে ফেলতে মৌখিকভাবে নির্দেশনা হয়েছে। এর আগে মৌখিক নির্দেশে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিও নামিয়ে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেছেন, গত বছর ৫ আগস্টের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ভার্চুয়াল বৈঠকে তাঁরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রপতির ছবি দেখতে পাননি। অর্থাৎ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এ থেকে তাঁরা এই বার্তাটি পেয়েছেন যে দূতাবাসের দেয়ালে রাষ্ট্রপতির ছবি বর্তমান সরকার বা গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকরা পছন্দ করছেন না।
তিনি জানান, শুধু রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছবিও দূতাবাসগুলোতে টাঙানো হচ্ছে না।সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা জানান, সংবিধান অনুযায়ী জাতির জনক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মৌখিক নির্দেশে বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। সেটি কার্যকর করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়ার আগেই বিদেশে বাংলাদেশের ৮২টি মিশনের ৬৫টি থেকেই রাষ্ট্রপতির ছবি সরানো হয়েছিল। গত শুক্রবার মূলত ওই মিশনগুলোকে ছবি সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।এর মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশন, কনস্যুলেট, কূটনীতিকদের অফিস ও বাসভবন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানো হলো। আগে এ বিষয়ে এ নির্দেশনা ছিল না। ছবি সরানোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা ই-মেইল না দিলেও টেলিফোনে অঞ্চলভিত্তিক কয়েকজন রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে।বিশ্বের সব দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোয় রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের ছবি প্রদর্শনের ঐতিহ্য আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে এর ব্যত্যয় ঘটিয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে দূতাবাসগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গতকাল ঢাকায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, বিভিন্ন দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি। এটা নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে কোনো আলোচনাও হয়নি। তবে এই ছবি সরানোর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।এদিকে সরকারি অফিসগুলোয় রাষ্ট্রপতির ছবি নেই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমান আইন অনুযায়ী, সরকারি অফিসে সরকারপ্রধানের ছবি থাকবে। এর বাইরে রাষ্ট্রপতি বা অন্য কারো ছবি থাকার কথা নয়।প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘সরকারি দপ্তরে পোর্ট্রেট ব্যবহার শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার নিরুৎসাহিত করছে। অলিখিতভাবে জিরো পোর্ট্রেট নীতি বজায় রেখেছে। তার পরও কেউ কেউ সরকার কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি নিজ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করেছে। সেগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে এমন কোনো লিখিত নির্দেশনা কোনো দপ্তর কিংবা মিশনকে দেওয়া হয়নি। তার পরও দেখা যাচ্ছে আজ এটা নিয়ে বাজার গরম করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার পর রাজনীতি নিয়ে ঘোঁট পাকানোর সুযোগ কমে আসছে। কাটতি ধরে রাখার জন্য ছোটখাটো অনেক বিষয়কেও এখন তাই পাহাড়সম করে তোলা হচ্ছে।’