মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সাদা পাথর ফেরানোর নির্দেশ হাইকোটের

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪ বার পড়া হয়েছে
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার সিলেটে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর অন্যতম কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ ‘সাদা পাথর’ এলাকা। এটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট একটি পর্যটনকেন্দ্র। সীমান্তের জিরো লাইন সংলগ্ন ১০ নম্বর এলাকার নাম পড়ে যায় ‘সাদা পাথর’।সেই সাদা পাথর এলাকায় প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটকের পদচারণ ঘটে কেবল সৌন্দর্যের টানে।পাথর মাড়িয়ে পড়া স্বচ্ছ জলরাশিতে গা ভাসিয়ে স্বর্গের সুধা নেন পর্যটকরা। মনোমুগ্ধকর সেই ‘সাদা পাথর’ এলাকাটি এখন প্রায় বিবর্ণ।সম্প্রতি এখানে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন পাথর লুট। তাতে বিবর্ণ হয়ে গেছে সাদা পাথর।ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে পর্যটনকেন্দ্রটি। প্রশাসনের উদাসীনতায় পাথরখেকোরা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে লুটপাট। এখনো মাটি খুঁড়ে বের করে নেওয়া হচ্ছে ‘সাদা পাথর’। দুই সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।স্থানীয়রা জানায়, আদালতের নিষেধাজ্ঞায় পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকা পাথররাজ্যে লুটপাট শুরু হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর থেকে। শাহ ভোলাগঞ্জের আরেফিন টিলা, রোপওয়ে বাংকার থেকে প্রকাশ্যে পাথর উত্তোলন করে এখন ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ছিল ‘সাদা পাথর’ ও তৎসংলগ্ন বসত বাড়ি। কোথাও কোথাও প্রভাবশালী নেতারা প্রভাব খাটিয়ে বসতবাড়ি কিনে নিয়ে পাথর উত্তোলন করছেন। পরিবেশের বারোটা বাজালেও কোম্পানীগঞ্জে যেন যেতে বারণ পরিবেশ অধিদপ্তরের।
 স্থানীয়রা বলছে, গত দুই সপ্তাহে সাদা পাথর এলাকায় কয়েক দফা পাহাড়ি ঢল নামে। প্রতিবারই ঢলের তোড়ে স্তরে স্তরে পাথর ও বালু নামে। এবার দফায় দফায় ঢলের পর শুধু বালু দেখা গেছে। বালুর স্তর সরিয়ে পাথর লুটপাট হয়েছে। দুই সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে।গত ১৪ জুন সকালে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) জাফলং পরিদর্শনে গেলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের গাড়িবহর আটকে দেন বালু-পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।এ সময় তারা বন্ধ থাকা জাফলংসহ সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো চালুর দাবিতে স্লোগান দেন। কিন্তু পাথর কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে যখন উপদেষ্টাদের গাড়ি আটকানো হয়, তখনো পাথর লুটপাটের ঘটনা অব্যাহত ছিল।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দাদের অনেকে বলেন, পাথররাজ্যে বড় লুটপাট হয়েছে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে। দিনে ও রাতে চলেছে লুটের মচ্ছব। সে সময় প্রতিরাতে অন্তত শতাধিক গাড়ি পাথর কোম্পানীগঞ্জ থেকে বের হয়ে যেতো। আর পাথর লুটের নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ, বিজিবির নীরবতায় লুট হয়েছে সাদাপাথরও। স্থানীয় কালাসাদেক বিওপি অতিক্রম করেই যেতে হয় পাথর কোয়ারিতে। বিজিবির ফাঁড়ি এলাকা মাড়িয়েই পাথরের ট্রাকগুলো যায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার বলেন, ‘৫ আগস্টের পরিবর্তন সারা দেশে এসেছে। সেটিকে আমরা রাজনৈতিক পরিবর্তন ধরে নিয়েছি। কিন্তু সব দিক দিয়ে নেতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তেমনি নেতিবাচক পরিবর্তন সিলেটেও এসেছে। এখানে প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই। ধ্বংসযজ্ঞ দেখে মনে হয়, এই বিষয়গুলো ঠেকানোর কেউ নেই। ’পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা  বলেন, ‘জাফলং যেমনি ইকোলজিক্যালি এরিয়া, তেমনি সাদাপাথর নয়। যে কারণে সাদা পাথরে অভিযান চালাতে পারি না। ইতোমধ্যে জাফলংয়ে অভিযানে ১২টার বেশি মামলা করেছি। তারপর জেলা প্রশাসন থেকে টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালিত হলে আমরা সংযুক্ত থাকি। মূলত এটি খনিজসম্পদের আওতায়। পরিবেশ সংশ্লিষ্ট আমলযোগ্য নয়। যেমনটি লোভাছড়াতে অভিযান চালিয়ে মামলা করতে গেলে খনিজসম্পদ থেকে চিঠি দিয়ে বাধা দেয়। ’খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর (বিএমডি) সহকারী পরিচালক (খনি প্রকৌশল) ফারজানা হক বলেন, ‘আমার মনে হয়, এসব বিষয়গুলি নিয়ে যারা দেখছেন, তারা কাজ করছেন। ’কারা দেখছেন, সেটি উল্লেখ করতে চাননি তিনি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আাজিজুন্নাহার বলেন, ‘পাথর লুটপাট ঠেকাতে আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট করছি। আজও অব্যাহত আছে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পাহারা দেওয়া তো সম্ভব না। যে কারণে বিজিবি ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) যাতে গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে, সেজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের (জেলা প্রশাসক) মধ্যেমে চিঠি দিয়েছি। তাছাড়া বিএমডিতেও যোগাযোগ করেছি। তারা তাদের একজন ম্যাজিস্ট্রেট পাঠাবেন, তবে একদিনের অভিযানে পাথর লুটপাট দমন করা সম্ভব না। ’পাথর লুটের বিষয়ে জানতে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ ‘মিটিংয়ে আছেন’ বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বলেন, ‘পাথর লুটপাট ঠেকাতে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। আজও অভিযান চলছে।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com