হাসপাতাল নির্মাণসহ বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বড় বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে চীন। ইতিমধ্যে চীনের সহায়তায় রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) চালু হয়েছে আধুনিক রোবটিক ফিজিওথেরাপি সেন্টার। এর বাইরে নীলফামারী, চট্টগ্রাম ও ধামরাইয়ে চলছে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সংস্কার ও আধুনিকায়নে অর্থ দেবে চীন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করেছি। তবে নিয়ম হলো যিনি বা যাঁরা বিনিয়োগ করেন তাঁরা তাঁদের নিজস্ব টিম দিয়ে যাচাই করেন। এখন বিষয়টি সে পর্যায়ে রয়েছে। এ জন্য আমরা স্পষ্ট করে জায়গার নাম বলছি না।কারণ জায়গাটা পাল্টাতে পারে। এ জন্য আমরা বিশেষায়িত হাসপাতাল, যেটি এক হাজার শয্যার হওয়ার কথা, সেটি উত্তরাঞ্চলে হবে বলছি।’ এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে স্বাস্থ্য খাতে চীনা সহায়তার বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনটি প্রকল্প প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, আরেকটি জেনারেল হাসপাতাল এবং অন্যটি আহত-প্রতিবন্ধী রোগীদের পুনর্বাসনের জন্য রিহ্যাবিলিটেশন হাসপাতাল।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও আহতদের পুনর্বাসনে দেশের প্রথম রোবোটিক ফিজিওথেরাপি সেন্টারে ৬২টি উন্নত রোবোটিক থেরাপি ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে ২২টি ইউনিট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে চালিত।এখানে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ রোগীকে উন্নত ফিজিওথেরাপি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে চীন।স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ওষুধ কম্পানিগুলো নিয়মিতভাবে ওষুধের কাঁচামাল (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট-এপিআই) চীন থেকে আমদানি করে। ব্যবসায়ীরা মেডিক্যাল সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির একটি বড় অংশ আমদানি করেন দেশটি থেকে। প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী মেডিক্যাল শিক্ষার জন্য চীনে যান। বাংলাদেশ করোনার বেশি টিকা কেনে চীন থেকে।
বিনিয়োগে আগ্রহী ইকুইপমেন্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান
সম্প্রতি রাজধানীর বনানীতে ‘নি হাও চীন’-বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা উন্নয়ন সম্পর্কিত এক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, ‘গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায়ও চীন সহযোগিতা করেছে। এ ছাড়া চীনের অনুদানে উত্তরাঞ্চলে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণের প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এরই মধ্যে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য একটি পুনর্বাসনকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।’উপদেষ্টা জানান, চীনা মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, নিয়ন্ত্রক কাঠামো সহজীকরণ এবং ব্যাবসায়িক কার্যক্রমের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উপযুক্ত স্থান নীলফামারী সদরে : রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভৌগোলিক দিক বিবেচনায় নীলফামারী সদরে চীন সরকারের উপহারের এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি স্থাপনের উপযুক্ত স্থান বলে মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী রংপুরের যে জায়গাটি পরিদর্শন করেছিলাম, সেটি মোটেও সন্তোষজনক না। এর পরেই নীলফামারী জেলা প্রশাসক দ্রুত ওই জায়গা নির্বাচন করে আমাদের প্রতিবেদন পাঠান। জায়গাটি পরিদর্শন করে দেখলাম, ওই জায়গার সার্বিকদিক বিবেচনা করে আমরা অনেকটা পজিটিভ অবস্থানে আছি। ভৌগোলিক ও যোগাযোগ দিক বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রথম পছন্দের জায়গা এটি, অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।’