সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নৌকার উৎসব

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে
পিরোজপুরের  নেছারাবাদের বলদিয়া ইউনিয়নের ডুবি গ্রাম। এখানকার বাতাসে মিশে আছে তাজা কাঠের গন্ধ, খালে ভাসছে নতুন নৌকা। খালের ধার ঘেঁষে সারি সারি কারখানা, কোথাও কাঠ কেটে মাপ নেওয়া হচ্ছে, কোথাও নৌকার পাটাতন বসানো চলছে। ঘরের উঠানে নৌকা, বারান্দায় নৌকা, রান্নাঘরে নৌকা—এ যেন গ্রামজুড়ে নৌকার উৎসব।

এই উৎসব থাকে বছরজুড়ে। তবে বৈশাখ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত নৌকার ব্যবসা থাকে রমরমা। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামজুড়ে রয়েছে প্রায় পাঁচ শ ছোট-বড় নৌকা কারখানা। প্রতিটি কারখানায় প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ডিঙি নৌকা।পেয়ারা সংগ্রহ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ—সবই হয় এই নৌকায় করে।জানা যায়, প্রায় এক শতাব্দী আগে এখানকার মানুষ খালের ভরসায় বেঁচে থাকার জন্যই শুরু করেছিল নৌকা বানানোর কাজ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেই ধারা আজও অব্যাহত। শুধু নৌকা তৈরি নয়, এই নৌকা বিক্রির জন্য শতবর্ষী নৌকার হাট গড়ে উঠেছে।প্রতি শুক্রবার সেই হাটে শত শত নৌকা বিক্রি হয়।

ডুবি গ্রামের প্রবীণ কারিগর আব্দুল বারেক বলেন, ‘আমার দাদার হাত ধরে এই গ্রামে নৌকা তৈরির কাজ শুরু হয়। আমাদের চার ভাইয়ের পরিবার এখন এই পেশা আঁকড়ে পড়ে আছি।’কারিগররা জানান, প্রতিটি কারখানায় তিন-পাঁচজন মিস্ত্রি নিয়মিত কাজ করেন। রেইনট্রি, চাম্বল, কড়াই কাঠ দিয়েই তৈরি হয় নৌকার দেহ।১৮ ফুট লম্বা ছোট একটি নৌকা বানাতে দুজনের লাগে এক দিন। মাঝারি নৌকা শেষ হতে সময় লাগে দুই দিন। নকশা করেও অনেকে নৌকা তৈরি করেন।কাঠের ওপর ভিত্তি করে দামের তারতম্যও আছে। ছোট নৌকা বিক্রি হয় দুই হাজার ৮০০ টাকা। আর মাঝারি নৌকা বিক্রি হয় সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকায়। বর্ষার মৌসুমে এই দামও কখনো বেড়ে যায় চাহিদার কারণে। প্রতিটি নৌকায় তাদের খরচ বাদ দিয়ে গড়ে ৫০০ টাকা আয় হয়।নৌকাশিল্পের আছে নানা সমস্যা। সরকারি কোনো নিবন্ধন না থাকায় কারখানাগুলো সুবিধাবঞ্চিত। এমনকি সরকারি আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এই কারিগররা।এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) পিরোজপুর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপব্যবস্থাপক এইচ এম ফাইজুর রহমান বলেন, ঋণ সুবিধা পেতে হলে সরকারি একজন কর্মচারীকে জামিনদার থাকতে হয়। কিন্তু কোনো কারিগর সেই জামিনদার জোগাড় করতে পারেন না। এ কারণে তাঁরা ৬ শতাংশ সুদে এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকার ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com