সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১ বছর পূর্তি আজ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

আজ শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের  বর্ষপূর্তি।  ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতে পালানোর পর গত ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। নানা চ্যালেঞ্জ আর সংকটের মধ্যে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের গুরুদায়িত্ব এই সরকারের ওপর। সংস্কারপ্রক্রিয়া এখনো চলমান।

সম্প্রতি বিভিন্ন সভা-সেমিনারে দেশের বিশিষ্টজনদের মধ্য থেকে সরকারের এই এক বছর মূল্যায়নে সফলতার সঙ্গে ব্যর্থতার কথাও উঠে এসেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গত ৪ আগস্ট তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এক বছরে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির চিত্র তুলে ধরে বলে, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বহুবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও এক বছরে বিচার, সংস্কার, নির্বাচন প্রস্তুতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অপ্রগতি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তার মধ্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সারা দেশে দায়ের করা প্রায় সব হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, গণ-অভ্যুত্থানে হত্যায় জড়িতদের বিচার কার্যক্রম শুরু, গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর, দুই পর্যায়ে খাত ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন, ৫০টি আইন প্রণয়ন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ সালের খসড়া চূড়ান্তকরণ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি; বিদ্যমান আইন অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাত সংস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি ও টাস্কফোর্স গঠন এবং প্রতিবেদন প্রণয়ন উল্লেখযোগ্য।

সরকারের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে টিআইবির পর্যবেক্ষণ, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অ্যাডহক প্রবণতা, প্রশাসন পরিচালনায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ়তা ও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনার ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারে দায়িত্বশীলদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পরিবর্তন করা, যার অন্যতম প্রতিফলন। প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রধানত উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপসারণের মাধ্যমে দলীয়করণ থেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা লক্ষ করা গেলেও একই সঙ্গে এক দলের স্থলে অন্য দলের প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কার্যত দলীয়করণের ধারাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ-প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অস্থিরতা, নতুন রাজনৈতিক বলয় তৈরির প্রয়াস এবং ব্যাপক রদবদলের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক অকার্যকরতা লক্ষ করা যায়। এসব ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতা দৃশ্যমান ছিল। সর্বোপরি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ ভেতর থেকে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ফলে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা প্রত্যাশিত পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়নি।’

তথ্য প্রকাশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এখনো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন উল্লেখ করে টিআইবির পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়,  ‘নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও সমালোচনার সুযোগ সার্বিকভাবে মুক্ত পরিবেশ ও বাকস্বাধীনতার পরিচায়ক বিবেচিত হলেও একদিকে কোনো কোনো মহলের অতিক্ষমতায়ন ও তার অপব্যবহার, এবং চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়, যা অসাম্প্রদায়িক সম-অধিকারভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের অভীষ্টের পথে অন্তরায়। এক বছরে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিকাশ ও প্রভাব প্রকটভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, এ সরকারকে অনেক ক্ষেত্রেই ফায়ার ফাইটিং করতে হয়েছে। যেসব দুর্যোগ উত্তরাধিকার সূত্রে তারা পেয়েছে, সেগুলো মোকাবেলা করতে তাদের অনেক সময় দিতে হয়েছে। এ জন্য হয়তো পুরো জিনিসটা (সংস্কার) এখনো হয়নি। আর পুরো জিনিসিটা তারা করতে পারবেও না। কারণ এ সরকারের সেই অর্থে রাজনৈতিক ভিত্তি নেই। রাজনৈতিক ভিত্তি নিয়ে (নির্বাচিত সরকারকে) বাকি সংস্কারগুলো শেষ করতে হবে। সেগুলো নির্বাচনী ইশতেহার এবং নির্বাচনী বিতর্কের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com