সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

লাতিন ভাষায় কোরআনের পাঁচ অনুবাদ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে
লাতিন ভাষায় কোরআনের অনুবাদ বিষয়টি মানুষকে বিস্মিত করতে পারে। কেননা লাতিন একটি মৃত ভাষা। খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতকে কথ্য ভাষা হিসেবে মানুষ লাতিন পরিহার করে এবং খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতকে লাতিন ভাষার সাধারণ চর্চা পরিত্যক্ত হয়। যদিও জ্ঞান-গবেষণার ভাষা হিসেবে লাতিনের চর্চা অব্যাহত আছে।

লাতিন ভাষায় কোরআনের পাঁচ অনুবাদ
লাতিন ভাষায় হওয়া কোরআনের কয়েকটি অনুবাদ ও তার বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো—

১. বরার্ট অব কিটনের অনুবাদ : লাতিন ভাষায় কোরআনের প্রথম অনুবাদ হয় ১১৪৩ খ্রিস্টাব্দে।

অনুবাদ করেন বরার্ট অব কিটন। তিনি যখন এই অনুবাদ করেন তখন ইউরোপীয় বাহিনী একদিকে স্পেনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে লিপ্ত, অন্যদিকে প্রাচ্যের ভূমিতে চলছে ধর্মযুদ্ধ ক্রুসেড। ধর্মযুদ্ধের অংশ হিসেবেই এই অনুবাদ করা হয়, যেন ইউরোপের মানুষ ইসলামবিমুখ হয়। তিনি এটাকে কোরআনের অনুবাদ বললেও আদতে তা ছিল সংযোজন, বিয়োজন ও বিকৃতির একটি নমুনা। বরার্ট অব কিটন এর নাম দিয়েছিল ‘মিথ্যা নবী মুহাম্মদের আইন’, যে নাম থেকে সহজেই ইসলামের প্রতি তার বিদ্বেষের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
দুঃখজনক বিষয় হলো, চার্চ এই অনুবাদই গ্রহণ ও প্রচার করেছিল এবং তা বহু ইউরোপীয়দের কাছে ‘উৎস গ্রন্থের’ মর্যাদা পেয়েছিল।২. মার্ক টলেডোর অনুবাদ : চিকিৎসক ও ধর্মযাজক মার্ক টলেডো (মৃত্যু ১২১০ খ্রি.) কোরআনের অনুবাদ করেন। মার্ক টলেডো ছিলেন আরবি ভাষার একজন দক্ষ অনুবাদক। আরবি ভাষায় রচিত চিকিৎসাশাস্ত্রের একাধিক আরবি বই অনুবাদ করেন। তিনি নির্ভুল শাব্দিক অনুবাদের প্রতি যত্নশীল ছিলেন। কোরআনের মর্ম বুঝতে তিনি তাফসির গ্রন্থের সহযোগিতা নেন। পাঁচ শতাব্দী কাল পর্যন্ত এটা ছিল কোরআনের তুলনামূলক নির্ভুল লাতিন অনুবাদ। তবে উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হওয়ায় চার্চ এই অনুবাদ গ্রহণ করেননি।

৩. ফ্লাভিয়াস মিথ্রিডটাসের অনুবাদ : প্রাচ্যবিদ ফ্লাভিয়াস মিথ্রিডটাস (মৃত্যু ১৪৫০ খ্রি.) পবিত্র কোরআনের অনুবাদ করেন। তাঁর অনুবাদটি বেশ সাবলীল হলেও তা ত্রুটিপূর্ণ। তিনি ছিলেন ইহুদি ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান। খ্রিস্টধর্মের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে তিনি কোরআনের ব্যাখ্যামূলক অনুবাদ করেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তিনি বিকৃতির আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি ইহুদি কাব্বালাকে খ্রিস্টধর্মে অন্তর্ভুক্ত করেন।

৪. জন ডে সেগোভিয়া : প্রভাবশালী স্প্যানিশ ধর্মযাজক জন ডে সেগোভিয়া (মৃত্যু ১৪৫৬ খ্রি.) কোরআনের অনুবাদ করেছিলেন। তিনি একজন মুসলমানের সহযোগিতায় প্রথমে স্প্যানিশ ভাষায় কোরআনের অনুবাদ করেন। পরবর্তী সময়ে তা লাতিন ভাষায় ভাষান্তর করেন। এই অনুবাদ তুলনামূলক নির্ভুল। জন ডে সেগোভিয়া খ্রিস্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ভেতরে শান্তিপূর্ণ যোগাযোগ ও সম্পর্কে বিশ্বাস করতেন।

৫. এগিডিও ডে ভিটারভোর অনুবাদ : তিনি ছিলেন ইতালিয়ান ধর্মতাত্ত্বিক ও কার্ডিনাল। ১৫১৮ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি অন্য দুজন আরবের সঙ্গে যৌথভাবে কোরআনের অনুবাদ করেন। তাঁদের অনুবাদ কর্মটি দুই খণ্ডের বৃহৎ কলেবরে প্রকাশিত হয়। তিনিও খ্রিস্টধর্মে ইহুদি কাব্বালা অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে ছিলেন। তাঁদের অনুবাদের মান ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে জানা যায় না।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com