জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর মধ্য দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বিতীয় মামলার বিচার শুরু হলো।
গতকাল বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।এ মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ২৭ আগস্ট এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৮ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ২৮ জুলাই মামলার অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানিতে তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দুই দিন শুনানি করেন। পলাতক ২৪ আসামির পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত চার আইনজীবীও অংশ নেন। তাঁরা আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করলেও ট্রাইব্যুনাল তা খারিজ করে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৪ জন পলাতক। অন্য ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তাঁরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন আবু সাঈদ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৬ জুলাই দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন আরো তীব্র হয়। এক পর্যায়ে তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।
রক্তক্ষয়ী ওই আন্দোলনের মধ্যেই গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। পরে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা ২৫ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন। এরপর তদন্ত শুরু হয়। এর মধ্যেই অন্য মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে গত ২ মার্চ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন প্রসিকিউশন। ৯ এপ্রিল তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আরো দুই আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (তদন্ত প্রতিবেদন) জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ তা আমলে নেন।
উল্লেখ্য, সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির আওতায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওই মামলায় ৩ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।