দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে। সেই ভিন্ন মত নিরসনে আমাদের মধ্যে আলোচনা হবে। কিন্তু জাতীয় ইস্যুতে, গণতন্ত্রের পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যাতে মুখ দেখাদেখি বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যে জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন, প্রয়োজন, প্রয়োজন। কারণ আমি বিশ্বাস করি, ধর্ম, দর্শন, মত যার যার। রাষ্ট্র আমাদের সবার।’
গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় শোভাযাত্রার আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই শোভাযাত্রায় ঢাকাসহ আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরাও যোগ দেন। ফলে শোভাযাত্রাটি ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত লোকজনে ভরে ওঠে।পরে শোভাযাত্রাটি পল্টন মোড় থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব, কদম ফোয়ারা, মৎস্য ভবন মোড় ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সড়ক হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। এদিন ঢাকা ছাড়াও সব বিভাগীয় শহরে একযোগে বিজয় মিছিল করে বিএনপি। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার যাত্রায় বর্তমানে আমরা ইতিহাসের যে সন্ধিক্ষণ পার করছি, তাতে পৌঁছাতে জনগণকে দেড় দশকের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ের ওই আন্দোলনে আমরা আমাদের হাজারো সহকর্মীকে হারিয়েছি, অনেক সন্তান-স্বজনের বুকের তাজা রক্ত দেখতে হয়েছে।
জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি কী ধরনের রাষ্ট্র, সরকার এবং রাজনীতি করবে, সে বিষয়ে এরই মধ্যে ৩১ দফার একটি রূপরেখা জনগণের সামনে আমরা তুলে ধরেছি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিএনপি জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চায়।’ তারেক রহমান বলেন, ‘পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের আমলে দেশে অন্ধকারের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। আমি বলব, আজকের এ যাত্রা হলো অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আলোর পথের যাত্রা।
তবে এ যাত্রা কিন্তু খুব সহজ নয়। বর্তমানে দেশের জনগণের সামনে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অপার সম্ভাবনা এবং সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা যদি এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের রাজনৈতিক শক্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি, জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবে না।’তিনি বলেন, ‘আমি দেশবাসীর উদ্দেশে আহবান জানিয়ে বলতে চাই, যিনি যে রাজনৈতিক দলের সদস্যই হন না কেন, আমাদের অবশ্যই সবার কথা মনে রাখা দরকার। দেশে যদি গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন না থাকে, তাহলে আমরা কেউই নিরাপদ নই। একমাত্র গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনই আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারে।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস ও সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, শাহজাদা মিয়া, লুত্ফুজ্জামান বাবর, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ।সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান ফখরুল : এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতাকে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাদের সহযোগিতায় আমরা বিজয় অর্জন করতে পেরেছি।’ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হবে খুব শিগগিরই। নতুন জুলাই ঘোষণাপত্র হয়েছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি ৩১ দফা। সেই ৩১ দফা বাস্তবায়িত হতে চলেছে সংস্কারের মধ্য দিয়ে।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আসুন আজ আমরা সেই শপথ গ্রহণ করি—আমরা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটা সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যে স্বপ্ন ছিল সমৃদ্ধ বাংলাদেশের।’তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্রকে আমরা রক্ষা করেছিলাম; আজ আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সেই গণতন্ত্রকে উদ্ধার করব। আমরা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করব। সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও মর্যাদার একটি রাষ্ট্র আমরা তৈরি করব। বিশ্বের দরবারে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াব।’