মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেনানায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন (বীর-উত্তম) মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের অধীনে জেড ফোর্সের প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন ১৯৩৯ সালের ২২ নভেম্বর বর্তমান কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের পহরচান্দা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মোহাম্মদ কাশেম এবং মা মজিদা খাতুন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন। মেজর আবু তাহের, মেজর মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর ও ক্যাপ্টেন বজলুল গণি পাটোয়ারীর সঙ্গে অ্যাবোটাবাদ সেনানিবাস থেকে ২৫ জুলাই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের দেবীগড়ে পৌঁছেন এবং ২৭ জুলাই দিল্লি হয়ে ৭ আগস্ট কলকাতায় যান। সেখান থেকেই তাঁকে জেড ফোর্সের অধীনে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ঠিক আগে ১৩ ডিসেম্বর সিলেটের এম সি কলেজ এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে যৌথ বাহিনী ও মুক্তিবাহিনী সিলেট শহরের উপকণ্ঠে পৌঁছে এবং ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। স্বাধীনতার পর তাঁকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত করা হয়। সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জিয়া উদ্দিন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ছিলেন। সিডিএর দায়িত্ব ছাড়ার পর আমৃত্যু তিনি চট্টগ্রাম নগরীর সুপরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্সি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।