বর্তমান ও ভবিষ্যতের সরকারকে জুলাই সনদ মেনে দেশ পরিচালনা করতে হবে। তা না হলে আবারও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে মাঠে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান : প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও করণীয়’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন জামায়াত নেতারা। সেমিনারে ১২ খণ্ডে প্রকাশিত ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতার শহীদ ও আহত যারা’ বইয়ের বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও তুর্কি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।এ সময় শহীদ স্মৃতি তথ্য সংবলিত একটি ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়।সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণজাগরণকে টেকসই করতে হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কার করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে এখনো ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট’ শক্তির দোসররা সক্রিয় রয়েছে এবং তারা রাষ্ট্রে অস্থিরতা তৈরি করছে।একটি ভারসাম্যপূর্ণ, দলীয়করণ ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না, এটাই জামায়াতের অবস্থান।’রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, এখনই সময় নিজেদের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার।জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরো বলেন, ‘জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন দলের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের পর এবার আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এখন দরকার তৃতীয়বার স্বাধীনতার লড়াই, যেখানে মানুষের গোলামির জায়গায় আল্লাহর গোলামি প্রতিষ্ঠিত হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় সংসদে আল্লাহর আইন পাস করতে হবে।মানুষের বানানো মতবাদ দিয়ে প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়।’ তিনি শহীদদের জন্য দোয়া করে বলেন, ‘তাঁরাই জাতির গর্ব।’সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ লইয়ারস কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, গুমের শিকার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, গণ অধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আযম মীর শাহীদুল আহসান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ প্রমুখ।সেমিনারে জামায়াত নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে মুসলমানদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে, মসজিদের ইমামদের হত্যা করা হয়েছে। এখন আবার দক্ষিণপন্থার নামে আতঙ্ক ছড়িয়ে নতুন ষড়যন্ত্র চলছে, যার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।