সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মায়ানমারে চার বছর পর জরুরি অবস্থা তুলে নিল

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে মায়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটির ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সেখানে চলছে গৃহযুদ্ধ। দেশটির বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ এখন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের হাতে। এ রকম অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ইতিবাচক খবরও পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির সামরিক সরকার চলমান ‘জরুরি অবস্থা’ তুলে নিয়েছে।বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জান্তা সরকার। এরই মধ্যে প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জনের কথা জানিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও চলমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগের সমালোচনা করছেন।জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন সাংবাদিকদের ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে জানান, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে।এই লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হচ্ছে।২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে মায়ানমারের সামরিক সরকার। সে সময় নোবেলজয়ী অং সান সু চির সরকারকে উত্খাত করে ক্ষমতা নেয় তারা। এর পর থেকেই দেশটিতে চলছে গৃহযুদ্ধ।এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।জরুরি অবস্থা জারির সময় দেশটির সর্বময় কর্তৃত্ব সামরিক বাহিনী প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিনি একই সঙ্গে আইন প্রণয়ন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় ক্ষমতার অধিকারী হন। তবে সম্প্রতি তিনি সংঘাত নিরসনের পন্থা হিসেবে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি বারবার সামনে নিয়ে আসছেন।

সংবাদ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অভ্যুত্থানের সময় ক্ষমতাচ্যুত নেতা ও অন্যান্য বিরোধী নেতাকর্মীরা আসন্ন নির্বাচন বানচালের পরিকল্পনা করছেন।গত মাসে জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ এই নির্বাচনকে ‘প্রহসনমূলক’ ও সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার চক্রান্তের অংশ হিসেবে আখ্যা দেন।সম্প্রতি মায়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর থেকে সব ধরনের বিধি-নিষেধ তুলে নিয়েছে ওয়াশিংটন। জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং চলতি মাসের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রশংসাসূচক চিঠি পাঠানোর পর তা তুলে নেন তিনি।যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মায়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুস। ক্ষমতাসীন জেনারেলের মিত্র ও সামরিক বাহিনী সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে তিনি ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।ডিসেম্বরের নির্বাচনকে নিষ্কণ্টক রাখতে এরই মধ্যে বিশেষ নির্বাচনী আইন প্রণয়ন করেছে জান্তা। গত বুধবার ঘোষিত এই আইনে ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস’ করতে পারে এমন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বা বক্তব্য রাখার দায়ে ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গত বছর ভোটার তালিকা প্রণয়নের সময় পাঁচ কোটি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে এক কোটি ৯০ লাখ মানুষের তথ্য সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে মায়ানমারের নির্বাচন কমিশন। গৃহযুদ্ধের সময় ‘নিরাপত্তা’ না থাকায় কয়েকটি অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ওই ঘটনায় নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক না হওয়ার আভাস মিলেছে। পাশাপাশি, নির্বাচনের সময় বিদ্রোহীদের সশস্ত্র হামলার আশঙ্কাও আছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।তবে জরুরি অবস্থার অবসান ও জান্তার বিরুদ্ধে বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়া হলেও মায়ানমারে শান্তির দেখা নেই। দেশের বড় একটি অংশ আরাকান আর্মি ও অন্য বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে আছে। গৃহযুদ্ধের জেরে এখন পর্যন্ত ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষ নিজ বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। সূত্র : ইরাবতি নিউজ

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com