সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

দ্রুত নির্বাচন অনেক সমস্যা কাটিয়ে দেবে- মির্জা ফখরুল

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫ বার পড়া হয়েছে
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মৌলিক বিষয়ে সংস্কার করে অতিদ্রুতই নির্বাচন হলে আমার মনে হয় অনেক সমস্যা, দ্বিধা কাটিয়ে আমরা একটা জায়গায় পৌঁছাতে পারব।গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই আলোচনাসভার আয়োজন করে জাতীয় প্রেস ক্লাব। সভার আগে ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ওপর আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল।জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে দেশের পাঁচজন সম্পাদককে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন, যায়যায়দিনের শফিক রেহমান, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, আমার দেশের মাহমুদুর রহমান, নিউ এজের নুরুল কবীর এবং দৈনিক সংগ্রামের সাবেক সম্পাদক আবুল আসাদ। তাঁরা ছাড়াও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে দুই শহীদ পরিবারের সদস্যদেরও সম্মাননা দেওয়া হয়।এ ছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে বিশেষ সন্মননা প্রদান করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি। তাঁদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আমার বিশ্বাস, এত সমস্যার পরেও ১২টা মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য এসেছে, বাকিগুলোতে ঐকমত্যে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। প্রতিদিন বৈঠক হচ্ছে কয়েক ঘণ্টা ধরে, অনেকগুলো বিষয় আছে, যেগুলো আমরাও ঠিক বুঝি না, তাঁরা যেগুলো করতে চান।আমার মনে হয়, এগুলোকে বাদ দিয়ে যে মৌলিক বিষয়গুলো আছে সেই বিষয়গুলোর সমাধান করে অতিদ্রুত নির্বাচনের দিকে যাওয়া উচিত। যেটা লন্ডনে তারেক রহমান সাহেব এবং প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের মধ্য দিয়ে যেটার মোটামুটি ধারণা পাওয়া গেছে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে নির্বাচনটা হবে। আমি অনুরোধ করব হতাশ-নিরাশ হবেন না। আমরা সেই বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে সফল হতে পেরেছি, ঊনসত্তরে সফল হতে পেরেছি, একাত্তরে সফল হতে পেরেছি, চব্বিশে সফল হতে পেরেছি, তাহলে আমরা এবারও পারব।তিনি বলেন, কারো সমালোচনা করতে চাই না।আজকে যে সময়টা, এই সময়টা হচ্ছে, পারস্পরিক একটা বোঝাপড়ার সময়। একটু বুঝে নিয়ে, পরস্পরকে বুঝে আমরা যদি খুব দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি, তাহলে ফলটা লাভ করবে জনগণ, তাদের একটা প্রতিনিধিত্ব থাকবে, তাদের একটা সরকার তৈরি হবে। এটা যে সব সোনা হয়ে যাবে, সব সমস্যা মিটে যাবে, তা কিন্তু না। কিন্তু একটা রাস্তা তৈরি হবে, যে রাস্তার মধ্য দিয়ে আমাদের কথাগুলো, জনগণের কথাগুলো, সরকারের কাছে পৌঁছাবে। সেই জায়গাটাতে আমরা যেতে চাই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক একটা বোঝাপড়া থাকতে হবে। এই যে আমরা কাদা ছোড়াছুড়ি করছি, গণতন্ত্রের কাদা ছোড়াছুড়ি হবে, অনেক কথা আসবে; কিন্তু এর একটা সীমা থাকা দরকার। তা না হলে একটা তিক্ততা সৃষ্টি হবে। যে তিক্ততা ভবিষ্যতে রাজনীতিকে আরো কলুষিত করবে।আশুলিয়ার একটি ঘটনা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে একজন মা তাঁর ছেলের ছবি দেখালেন, যে শহীদ হয়েছে। গতকাল আশুলিয়ার অনুষ্ঠানে ছয়-সাত বছরের একটা ছেলে আমার কাছে এসে জড়িয়ে ধরে বলছে, আমার মাথার খুলিটা নেই। খুলিটা প্লাস্টিকের। অর্থাৎ গুলিতে তার মাথার খুলি উড়ে গিয়েছিল। পরে ডাক্তার সাহেবরা সেটাকে প্লাস্টিক দিয়ে আর্টিফিশিয়াল খুলি তৈরি করে লাগিয়ে দিয়েছে। এর চেয়ে বড় ত্যাগ আর কী হতে পারে? এটার দাম যদি আমরা না দিতে পারি, তাহলে ওই শিশুদের সামনে, আমার বোনের সামনে, মায়ের সামনে, জাতির সঙ্গে নিঃসন্দেহে একটা বড় প্রতারণা করব। আমি আশা করব সেই পথে আমাদের যেতে হবে না। নিঃসন্দেহে আমরা সুন্দর বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।একই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এখন কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। একটা মগের মুল্লুকের মধ্যে আমরা চলছি। এটা থেকে বের হয়ে আসতে হলে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সাপ্তাহের মধ্যে জনগণকে অধিকারটা প্রয়োগ করার সুযোগটা সৃষ্টি করে সন্মানের সঙ্গে বিদায় হোন।সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ বলেন, ‘আমাদের তরুণরা আমাদের শক্তি। কিন্তু তারা ক্ষমতার অংশীদার হয়ে তারা হয়তো মোহ এবং চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছে। যেটা আমরা খুবই কষ্ট ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্য করছি। আমরা চাইব না তাদের বীরত্ব একটা গ্লানির মধ্যে পর্যবসিত হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা ও শহীদ জাবির ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য বখতিয়ার রানা, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাহেদ চৌধুরী প্রমুখ।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com