অতীতের রাজনৈতিক সরকারগুলোর হস্তক্ষেপের কারণে দেশের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান লণ্ডভণ্ড হয়েছে বলে মণ্ডব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই মন্তব্য করেন।
জামায়াতের আমির তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান অতীতের রাজনৈতিক সরকারগুলোর হস্তক্ষেপে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। যার খেসারত এই দেশের জনগণকে দিতে হচ্ছে।এমন অবস্থা ভবিষ্যতে আর চলতে দেওয়া উচিত নয়।’ডা. শফিকুর রহমান আরো লিখেছেন, ‘আমরা যদি দেশের জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে সেবা করার সুযোগ পাই, তাহলে সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয় সরকারের কর্তৃত্ব থেকে আলাদা করে একটি স্বতন্ত্র সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে থাকব। এ অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট—এখানে কোনো অস্পষ্টতা নেই।’জামায়াত আমির ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দেশ ও জাতির স্বার্থে এর কোনো বিকল্প নেই।নইলে আমাদের সমাজকে ঘুণে ধরা অবস্থা থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।’এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল রাজধানীতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়।বৈঠকে দুই দেশের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়।জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি ছিল ‘উন্মুক্ত, বন্ধুসুলভ ও গঠনমূলক’ এক বৈঠক।বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রশংসা করেছেন, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। টেকসই অর্থনীতির পথে এগিয়ে যেতে কোরিয়ার পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও পাওয়া গেছে। এ সময় রপ্তানি খাতে শুল্ক ও ট্যারিফ সংক্রান্ত কিছু সমস্যার কথাও উঠে আসে, যার দ্রুত সমাধানে রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জামায়াত নেতারাও এ বিষয়ে সহনীয় সমাধান প্রত্যাশা করেন।জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূতের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলটির পক্ষ থেকে এর আগেই নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ (পিআর) পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন, যা নির্বাচন ব্যবস্থায় অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব কমিয়ে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদ গঠনে সহায়ক হবে।বৈঠকে দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরো জোরদার করার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করে।রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন জিন-হি বেক। জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।