সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

আইসিইউর সামনে আহাজারি প্রার্থনা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দুই হাতে মুখ ঢেকে অঝোরে কাঁদছেন একজন বাবা। তাঁকে ঘিরে আছে চার-পাঁচজন স্বজন। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চতুর্থ তলার আইসিইউর (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সামনে গিয়ে বেদনাবিধুর এমন দৃশ্য দেখা যায়।খানিক পর জানা যায়, তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ শিক্ষার্থী মো. মাহতাব রহমান ভূঁইয়ার (১৫) বাবা মো. মিনহাজুর রহমান ভূঁইয়া।মাহতাবের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলছেন।সেখানে মিনহাজুর রহমানের মতো এমন আরো ২০ শিক্ষার্থীর মা-বাবাকে দেখা গেছে, যাঁরা অপেক্ষায় আছেন সন্তানের শারীরিক অবস্থার তথ্য জানতে। কেউ মেঝেতে বসে তসবি গুনে দোয়া পড়ছেন।কেউ একটু পর পর দীর্ঘশ্বাস ফেলে সন্তানের স্মৃতিচারণা করে ডুকরে কেঁদে উঠছেন। অনেকে নির্বাক, অশ্রু শুকিয়ে আছে চোখের নিচে।আটজনে অবস্থা ‘সংকটাপন্ন’ : জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ৪৫ রোগীর মধ্যে আটজনের অবস্থা ‘সংকটাপন্ন’ বলছেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া ১৩ জনের অবস্থা ‘সিভিয়ার’ এবং ২৩ জনের অবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে আছে।এই তিনটি ক্যাটাগরিতে রোগীদের শারীরিক অবস্থা প্রতি ঘণ্টায় পর্যবেক্ষণ করছেন তাঁরা। চিকিৎসকদের ভাষ্য, সিভিয়ার ক্যাটাগরির রোগীরা মাঝারি অবস্থায় এবং ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ের রোগীরা অন্য রোগীদের তুলনায় কিছুটা ভালো আছে।গতকাল বিকেলে বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘যাকে আমরা ক্রিটিক্যাল বলছি, হয়তো তার উন্নতি হচ্ছে। আবার সিভিয়ার পর্যায় থেকেও ক্রিটিক্যাল হয়ে যেতে পারে।’পর্যবেক্ষণ করছেন সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা : অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীন বলেন, এই হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা সমন্বিতভাবে চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন।সকালে সিঙ্গাপুর থেকে আসা চিকিৎসক এবং তাঁদের চিকিৎসক টিম রোগীদের পর্যবেক্ষণ করেছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা, ড্রেসিং ও ওষুধ প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তন করা হচ্ছে।রোগীদের অবস্থা নানা কারণে পরিবর্তন হয়। এ জন্য ১২ ঘণ্টা পর পর ক্যাটাগরিও পর্যালোচনা করছেন চিকিৎসকরা। ঘণ্টায় ঘণ্টায় রোগীদের অবস্থা মূল্যায়ন করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এই চিকিৎসক।অবস্থার উন্নতি হলে ক্রিটিক্যাল ক্যাটাগরিতে থাকা রোগীকে সিভিয়ার ক্যাটাগরিতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একইভাবে সিভিয়ার হিসেবে বিবেচিত রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ক্রিটিক্যাল ক্যাটাগরিতে নেওয়া হবে।নাসির উদ্দীন জানান, এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বার্ন ইনস্টিটিউটের বাইরে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি আছে ৯ জন এবং মারা গেছে ১৫ জন। এ ছাড়া ঢাকা মেডিক্যালে একজন, লুবানা জেনারেল হাসপাতালে একজন এবং ইউনাইটেড হাসপাতালে একজন মারা গেছে।বর্তমানে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে একজন, শহীদ মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন এবং উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন চিকিৎসাধীন।৬ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়নি : গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত সিএমএইচের মর্গে রাখা ছয় মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এরই মধ্যে এসব মৃতদেহ থেকে ডিএনএ অ্যানালিসিসের (প্রোফাইলিং) জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সিআইডির ল্যাবরেটরিতে অতি দ্রুত ডিএনএ প্রোফাইলিং হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হতাহতদের তালিকায় যাঁদের নিখোঁজ সন্তান বা স্বজনের নাম নেই, সেসব পরিবারের সদস্যদের মালিবাগ সিআইডি ভবনে গিয়ে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের উদ্দেশ্যে নমুনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।এখন পর্যন্ত নিখোঁজ মাত্র একটি পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে নমুনা প্রদান করা হয়েছে। নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের নমুনা পাওয়া গেলে সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com