জেলা প্রতিনিধি , ময়মনসিংহ
অঞ্চল নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ, ত্রিশাল, গফরগাঁও ও কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বর্পূণ নদ। যা কৃষি, পরবিশে এবং জনজীবনে বিশাল ভূমকাি পালন করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় তীরবর্তী এলাকায় প্রতিদিন ভাঙছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের দুর্বলতা ও নজরদারির অভাবে সুযোগ নিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। নদের গভীরতা এবং গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য কৃষজিমি ও ঘরবাড়ি নদের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।ঈশ্বরগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে দীর্ঘদিন ধরে। উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের লাঠিয়ামারি ঘাট এলাকায় গভীর রাতে বসানো হচ্ছে ড্রেজার, চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব।এতে একদিকে যেমন নদীর পরিবেশ ও তীরবর্তী বসতবাড়ি হুমকির মুখে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব।গতকাল রবিবার ভোরে সরেজমিনে দেখা যায়, নদে শত শত শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলার লাঠিয়ামারি ঘাটে এসে বালু নামাচ্ছে। কাশিয়ার চর ও মরিচার চর থেকে উত্তোলিত বালু এই ঘাটে এনে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী মহল। অথচ ঘাটটির কোনো ইজারা নেই।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রির কার্যক্রম। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতেই সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং উপজেলা প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলন ঈশ্বরগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আশকর আলী বলেন, ‘নদ রক্ষা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এখন বাড়িছাড়া।পানি উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী কাশিয়ার চর থেকে কালিরবাজার খেয়াঘাট পর্যন্ত নদ এলাকা থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।ঈশ্বরগঞ্জ ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে উচাখিলার বটতলা ঘাটে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু জব্দ করে নিলামে বিক্রি করেছি। খুব শিগগিরই লাঠিয়ামারি ঘাটেও অভিযান চালানো হবে।’