এই প্রক্রিয়া চলমান থাকলে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি।কমিশনের প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং তৃতীয় বৃহত্তম দলের একজন প্রতিনিধি মিলে পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠিত হবে। সরকার ও বিরোধী দল তিনজন করে এবং তৃতীয় দল দুজনের নাম প্রস্তাব করবে। এই আটজনের মধ্য থেকে র্যাংকড চয়েস ভোটিংয়ের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা চূড়ান্ত করা হবে। প্রস্তাবটি আলোচনাকালে বাছাই কমিটি পাঁচ থেকে সাত সদস্যের করার প্রস্তাব এসেছে। একই সঙ্গে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের বাইরেও অন্যান্য দলের পক্ষ থেকেও প্রধান উপদেষ্টা পদের জন্য নাম প্রস্তাব করার বিধান রাখার পরামর্শ এসেছে। তবে, অতীতে বিচার বিভাগ রাজনীতিকরণ হয়েছে, সে তথ্য তুলে ধরে বেশির ভাগ দলই এই প্রক্রিয়ায় বিচারক বা বিচার বিভাগীয় ব্যক্তিদের রাখার বিরোধিতা করেছে।এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হলেও বিষয়টি এখনো আপিল বিভাগের রিভিউ পর্যায়ে বিচারাধীন। আশা করি, আদালতের রায়ের মাধ্যমেই এই ব্যবস্থা আবার চালু হবে। তবে আদালতের রায়ে যদি ব্যবস্থা পুনর্বহাল না-ও হয়, সে ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ চাইলে আইন করে নতুনভাবে এই পদ্ধতি চালু করতে পারে। তিনি বলেন, সংলাপে বিচার বিভাগকে বিতর্কের বাইরে রাখতে হবে, এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য রয়েছে। বিএনপি ও অন্যান্য দল কয়েকটি বিকল্প পদ্ধতি দিয়েছে। কমিশন সেগুলো বিশ্লেষণ করে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। সেই খসড়ায় যদি কারো কোনো সংশোধনী বা পর্যবেক্ষণ থাকে, তাঁরা তা জমা দিতে পারবেন। রাষ্ট্রপতিকে প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে রাখার বিষয়ে বিএনপির প্রস্তাব এখন আর নেই বলেও তিনি জানান।তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং তৃতীয় বৃহত্তম দলের একজন প্রতিনিধির পাশাপাশি আরো দুজন সদস্য থাকতে পারেন বলে মত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কমিটি বিভিন্ন দল বা জনগণের কাছ থেকে প্রস্তাবিত নাম আহবান করতে পারবে।একই সঙ্গে এক ব্যক্তি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে একসঙ্গে থাকতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন নিয়ে খুব একটা মতভেদ নেই। এখন বিতর্কটা চলছে দলীয় প্রধান পদে উনি থাকতে পারবেন কি না? এটা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এক জায়গায় আসতে পারব। আমাদের দলীয় প্রস্তাব যুক্তি দিয়ে জানিয়েছি।’জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান গঠনে ভোট নয়, রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রক্রিয়াই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান গঠনে পাঁচ বা সাত সদস্যের কমিটির যে দুটি প্রস্তাব এসেছে, আমরা কোনোটিরই বিরোধিতা করছি না।’এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ‘আমরা প্রায় দুই মাস আগেই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি রূপরেখা জমা দিয়েছিলাম। সেখানে বলা হয়েছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বাছাইয়ের জন্য একটি পাঁচ থেকে সাত সদস্য বা ১১ সদস্যের কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটি সরকারি দল, বিরোধী দল এবং সংসদে তৃতীয় অবস্থানে থাকা দলের কাছ থেকে নাম সংগ্রহ করবে। এরপর অন্যান্য দলের দেওয়া প্রস্তাব মিলিয়ে একটি সম্মিলিত খসড়া প্রণয়ন করেছে কমিশন। আমরা বিচার বিভাগকে এই প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখার পক্ষে। তবে কমিটি পাঁচ বা সাতজনের হলে আপত্তি নেই।’