পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের শুরুতে সিরিজের আগে উইকেট নিয়ে চলা রহস্যের জট খুলল। গতকাল রবিবার প্রথম ওভারে অফস্পিনার শেখ মেহেদী হাসানের হাতে বল দেখে বুঝতে বাকি রইল না, সহজাত স্পিন সহায়ক মন্থর উইকেটেই বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টি-টোয়েন্টি। দ্বিতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদ বল করার পর উইকেটে যেভাবে জুতার দাগ পড়ে গেল, তাতে দুই দলের লড়াইয়ে বোলারদের দাপট দেখার স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়। যদিও এই উইকেটে তিন পেসারের সঙ্গে দুই স্পিনার নিয়ে নামে স্বাগতিকরা।তবে মুস্তাফিজুর রহমানের হিসাবী বোলিংয়ের নতুন রেকর্ডে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো অলআউট করার স্বাদ পায় বাংলাদেশ। লক্ষ্য মোটে ১১১ রানের, শুরুতে ২ উইকেট হারিয়ে শঙ্কায় পড়েন লিটন দাসরা। সেই শঙ্কা উড়িয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ বছর পর টি-টোয়েন্টি জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।২৭ বল আগে ৭ উইকেটে পাওয়া জয়ে কিছুদিন আগে লাহোরে ৩-০ ব্যবধানে হারের বদলা নেওয়ার পথে এগিয়ে গেলেন লিটনরা।পাকিস্তানের বিপক্ষে এ নিয়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি জিতল বাংলাদেশ। সব মিরপুরেই। মাঝে অবশ্য আরেকটি জয় আছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। তবে সেটি মূল দল নয়, এশিয়ান গেমসের প্রতিযোগিতায়।দীর্ঘদিনের জয়-খরা কাটাতে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠিয়ে ১১০ রানে গুটিয়ে দেন স্বাগতিক বোলাররা। দুইবার জীবন পেয়ে ওপেনার ফখর জামান ৩৪ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৪ রান না করলে এক শর নিচেই থামতে পারত সফরকারীদের ইনিংস। ভুলটা করেন তাসকিন আহমেদ। শেখ মেহেদীর করা প্রথম ওভারে শূন্য রানে থাকা ফখরের সহজ ক্যাচ ছাড়েন তাসকিন। পরের ওভারে অবশ্য প্রতিদান দেন তাসকিন।আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুবকে (৬) ফেরান এই ডানহাতি পেসার। এই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগে পাওয়ার প্লেতে আরো ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান। সবমিলিয়ে প্রথম ৬ ওভারে ৪১ রানে ৪ উইকেট হারায় সফরকারীরা।অন্য প্রান্তে তখনো আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলছিলেন ফখর। ব্যক্তিগত ৪০ রানে আরেকবার জীবন পান তিনি। তবে ফিফটির দেখা পাননি, ৪৪ করে রান আউট হয়ে ফেরেন এই ওপেনার। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলা খুশদিল শাহ (১৮) এবং আব্বাস আফ্রিদি (২২) কিছুটা চেষ্টা করলেও বাংলাদেশি বোলাররা বেশিদূর টানতে দেননি তাঁদের। শেষ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ঘরের মাঠে চেনা কন্ডিশনে কাটার-স্লোয়ারের সঙ্গে গতির তারতম্যে সফরকারী ব্যাটারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেন মুস্তাফিজ। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে নিজের রেকর্ড ভাঙেন এই বাঁহাতি পেসার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পূর্ণ কোটায় বোলিং করে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে এটি সবচেয়ে কম রান খরচের রেকর্ড। আগের রেকর্ডও তাঁরই ছিল। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেপালের বিপক্ষে ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ৭ রানে ৩ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। গতকাল সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ।
নাগালের মধ্যে লক্ষ্য পেয়েও শুরুতে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কায় সিরিজ জয়ে অবদান রাখা ওপেনার তানজিদ হাসান ইনিংসে প্রথম ওভারে ১ রানে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা সালমান মির্জার শিকার হন। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এই পেসার ফেরান অধিনায়ক লিটন দাসকে। গ্যালারিভর্তি দর্শকের সামনে ৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন পারভেজ হোসেন ও তাওহিদ হৃদয়। তৃতীয় উইকেটে ৭৩ রানের জুটিতে স্বাগতিকদের জয়ের কাজ সহজ করে দেন এই দুজন। তাওহিদ ৩৭ বলে ৩৬ রান করে আউট হলে ভাঙে এই জুটি।এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন পারভেজ। ২টি চার ও ৫টি ছয়ের সাহায্যে মাত্র ৩৪ বলে দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন এই ওপেনার। আগেরটিও পাকিস্তানের বিপক্ষে। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৫৫ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন তিনি। জাকের আলী অপরাজিত থাকেন ১০ বলে ১৫ রানে। ১৫.৩ ওভারে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ।