উচ্চগতির ইন্টারনেটসেবা নাগালের মধ্যে পৌঁছতে শুরু করেছে। বেশ কিছু আইএসপি রেসিডেনশিয়াল গ্রাহক পর্যায়ে ১০০ মেগাবিট গতির ইন্টারনেটসেবা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি আছে ৩০০ মেগাবিট থেকে ১ গিগাবিট পর্যন্ত ক্যাশ সার্ভার সুবিধা। তবু অনেক গ্রাহক পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত গতি। অনেকেই সঠিক রাউটার, কেবল এবং সেটিংস ব্যবহার না করায় উচ্চগতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উচ্চগতির ইন্টারনেট পেতে করণীয় জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদমাসপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে এখন ১০০-১২০ মেগাবিট গতির ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিটি সংযোগে বাংলাদেশের মধ্যে বিডিআইএক্স নেটওয়ার্ক সেবার মাধ্যমে গিগাবিট স্পিড দিচ্ছে, পাশাপাশি থাকছে ৩০০ মেগাবিট বা আরো বেশি গতির ক্যাশ সার্ভার সুবিধা। ক্যাশ সার্ভারের মাধ্যমে ফেসবুক, ইউটিউব এবং বেশ কিছু গেমিং সেবা দিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। ক্যাশ সার্ভার সুবিধার জন্য উচ্চমূল্যের প্যাকেজের প্রয়োজন নেই, ৬০০-৭০০ টাকার প্যাকেজেও এ সুবিধাগুলো পাওয়া যাচ্ছে।
ডিভাইস সেটিংস
মনে রাখতে হবে, নির্ভরযোগ্য সংযোগের জন্য কেবল ব্যবহারের বিকল্প নেই। ডেস্কটপ ব্যবহারকারীদের উচিত ল্যান কেবল ব্যবহার করে রাউটারের সঙ্গে পিসি সংযুক্ত করা। মাদারবোর্ডের ল্যান পোর্ট অথবা ল্যান কার্ডের সর্বোচ্চ গতি কত, সেটাও খেয়াল করতে হবে। খুব পুরনো না হলে ল্যান পোর্টটি গিগাবিট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ক্যাট-৫ই বা ক্যাট-৬ কেবল দিয়ে গিগাবিট রাউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করলে অনায়াসে সেকেন্ডে ১১০ মেগাবাইট পর্যন্ত গতিতে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে, যদি ইন্টারনেট সংযোগটি গিগাবিট গতি সমর্থিত হয়। কন্ট্রোল প্যানেল বা নেটওয়ার্ক সেটিংস থেকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে গিগাবিট স্পিড চালু করা আছে কি না।
স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপে চেষ্টা করতে হবে ৫ গিগাহার্জ নেটওয়ার্কের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার। এতে সর্বোচ্চ গতি পাওয়া যাবে। তবে মনে রাখা চাই, ৫ গিগাহার্জ নেটওয়ার্কের পরিধি অনেক কম। রাউটার আর ওয়াই-ফাই ব্যবহারকারী ডিভাইসের মধ্যে যদি দেয়াল থাকে সে ক্ষেত্রে গতির হেরফের হতে পারে। রাউটার আর ডিভাইস দুটিই যদি অন্তত ওয়াই-ফাই ৬ সমর্থন করে তাইলে সহজেই ৫০০ মেগাবিট গতির সংযোগ পাওয়া সম্ভব।
রাউটার সেটআপ
বাসা বা অফিসের মধ্যখানে রাউটার রাখার চেষ্টা করতে হবে। এক পাশে থাকলে অন্য প্রান্তে ওয়াই-ফাইয়ের গতি পাওয়া যাবে না। সঠিক নেটওয়ার্ক চ্যানেল বাছাই করাও জরুরি। মাত্র ১২টি চ্যানেলের মধ্যে কাজ করে ২.৪ গিগহার্জ ওয়াই-ফাই, চেষ্টা করতে হবে সবচেয়ে কম ব্যবহৃত চ্যানেলে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সেটআপ করার। ৫ গিগাহার্জ নেটওয়ার্কের চ্যানেল বাছাই করার ক্ষেত্রে খেয়াল করতে হবে, ব্যবহৃত প্রতিটি ডিভাইস সে চ্যানেল সমর্থন করে কি না। এখানে ডিভাইস ও রাউটারে এক দেশের বাজার থেকে কেনা হলে রিজিওনজনিত সমস্যায় পড়তে হবে না। ওয়াই-ফাই রাউটার বেশ গরম হয়। তাই এটি বদ্ধ জায়গায় রাখা যাবে না। অতিরিক্ত গরম হয়ে রাউটারের কার্যক্ষমতা কমে নেটওয়ার্কের গতি কমে যেতে পারে।