সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ গতি পেতে করণীয়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

উচ্চগতির ইন্টারনেটসেবা নাগালের মধ্যে পৌঁছতে শুরু করেছে। বেশ কিছু আইএসপি রেসিডেনশিয়াল গ্রাহক পর্যায়ে ১০০ মেগাবিট গতির ইন্টারনেটসেবা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি আছে ৩০০ মেগাবিট থেকে ১ গিগাবিট পর্যন্ত ক্যাশ সার্ভার সুবিধা। তবু অনেক গ্রাহক পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত গতি। অনেকেই সঠিক রাউটার, কেবল এবং সেটিংস ব্যবহার না করায় উচ্চগতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উচ্চগতির ইন্টারনেট পেতে করণীয় জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদমাসপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে এখন ১০০-১২০ মেগাবিট গতির ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিটি সংযোগে বাংলাদেশের মধ্যে বিডিআইএক্স নেটওয়ার্ক সেবার মাধ্যমে গিগাবিট স্পিড দিচ্ছে, পাশাপাশি থাকছে ৩০০ মেগাবিট বা আরো বেশি গতির ক্যাশ সার্ভার সুবিধা। ক্যাশ সার্ভারের মাধ্যমে ফেসবুক, ইউটিউব এবং বেশ কিছু গেমিং সেবা দিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। ক্যাশ সার্ভার সুবিধার জন্য উচ্চমূল্যের প্যাকেজের প্রয়োজন নেই, ৬০০-৭০০ টাকার প্যাকেজেও এ সুবিধাগুলো পাওয়া যাচ্ছে।

অতএব বলা যায়, দ্রুতগতির ইন্টারনেট এখন আর নাগালের বাইরে নয়। এর পরিপূর্ণ ব্যবহার করার জন্য চাই সঠিক রাউটার, কেবল এবং সেটআপ।কেবল  বাসা বা অফিসে ইন্টারনেটসেবা পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হয় অপটিক্যাল ফাইবার। অপটিক্যাল ফাইবার সরাসরি পিসি বা ওয়াই-ফাই রাউটারে সংযুক্ত করা যায় না, এ জন্য প্রয়োজন একটি বিশেষ ডিভাইস, যাকে ‘ওনু’ বা ‘জিপন’ বলা হয়।

সঙ্গে পিসি বা রাউটারের সংযোগ দেওয়া হয় ল্যান কেবলের মাধ্যমে।ল্যান কেবলের বেশ কয়েকটি ধরন আছে। স্বল্পমূল্যের ক্যাট-৫ কেবল সর্বোচ্চ ১০০ মেগাবিট গতিতে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। ফলে, রাউটার বা পিসির সঙ্গে এই কেবল দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হলে ক্যাশ সার্ভার, বিডিআইএক্স বা ইন্টারনেট—সব সেবারই গতি পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ১০০ মেগাবিট বা প্রতি সেকেন্ডে ১১ মেগাবাইট।অতএব, অন্তত ক্যাট-৫ই বা ক্যাট-৬ কেবল কেনা উচিত। কেনার সময় অবশ্যই সেটি ১ গিগাবিট গতিতে কাজ করতে সক্ষম কি না তা পরীক্ষা করে তবেই কিনতে হবে।ল্যানের কেবল অতিরিক্ত লম্বা হলেও গতি কমে যায়। অনেকে একাধিক তলায় বা কয়েকটি আলদা ঘরে সংযোগের জন্য ল্যান কেবল ব্যবহার করে থাকেন, সে ক্ষেত্রেও সংযোগের গতি কমে যেতে পারে।রাউটারউন্নতমানের রাউটারের মূল্য বেশ চড়া।অনেকেই চেষ্টা করেন যতটা সম্ভব কম বাজেটের মধ্যে রাউটার কেনার। রাউটারের বাক্সে এর সর্বোচ্চ গতি উল্লেখ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই এর কাছাকাছি গতিও দিতে পারে না অনেক বাজেট রাউটার। সর্বোচ্চ কয়টি ডিভাইসে ইন্টারনেট জোগান দিতে সক্ষম, সেটি রাউটারের ম্যানুয়ালে ছোট করে উল্লেখ করা থাকলেও বক্সে সাধারণত লেখা থাকে না।বাজারে আড়াই হাজার টাকা মূল্যের প্রতিটি রাউটারের ইন্টারনেট সংযোগের পোর্টটি ১০০ মেগাবিট গতির। যদিও অনেক রাউটারের মধ্যেই ওয়াই-ফাইয়ের গতি লেখা ৩০০ থেকে ১২০০ মেগাবিট। ইন্টারনেট সংযোগই যদি হয় সর্বোচ্চ ১০০ মেগাবিট, সে ক্ষেত্রে ৩০০ মেগাবিট গতি আশা করা উচিত নয়। এসব ক্ষেত্রে রাউটার নির্মাতারা শুধু ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকা ডিভাইসগুলো একে অন্যের সঙ্গে সর্বোচ্চ কত গতিতে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে সেটা উল্লেখ করে থাকে। তাই রাউটার কেনার সময় অবশ্যই তার ল্যান এবং ওয়্যান পোর্টের গতি কত সেটা দেখে কেনা উচিত। একেবারে কম বাজেটের মধ্যে কেনার প্রয়োজন না থাকলে অবশ্যই গিগাবিট গতির পোর্টযুক্ত রাউটার কিনতে হবে।
সব ওয়াই-ফাই এক নয়। প্রচলিত ২.৪ গিগাহার্জ ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সর্বোচ্চ গতি ১৫০-২০০ মেগাবিট হয়ে থাকে। এর জন্য প্রয়োজন একেবারে উন্মুক্ত চ্যানেল, যেখানে আর কোনো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক নেই। ঘনবসতির শহরে প্রতিটি চ্যানেলে বেশ কয়েকটি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক থাকা স্বাভাবিক। উচ্চগতির জন্য প্রয়োজন ৫ গিগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সির ওয়াই-ফাই, সে জন্য অবশ্যই রাউটারটি হতে হবে ডুয়াল-ব্যান্ড। বেশির ভাগ গিগাবিট রাউটারে ডুয়াল-ব্যান্ড ওয়াই-ফাই সমর্থন করে।মেশ নেটওয়ার্কবড় এলাকাজুড়ে ওয়াই-ফাই প্রয়োজন হলে অবশ্যই মেশ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা উচিত। ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার ব্যবহার করেন অনেকে, এতে পুরো নেটওয়ার্কের গতিই কমে যেতে পারে। বাজারে বেশ কিছু স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের দুই বা তিনটি রাউটারের মেশ নেটওয়ার্ক প্যাকেজ পাওয়া যায়। ডিভাইসগুলো কিভাবে কোথায় রাখতে হবে এ বিষয়ে ম্যানুয়ালের মধ্যে থাকা নির্দেশনা মেনে মেশ সেটআপ করে নিলে পুরো বাসা বা অফিসে সমান উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাবে।

ডিভাইস সেটিংস

মনে রাখতে হবে, নির্ভরযোগ্য সংযোগের জন্য কেবল ব্যবহারের বিকল্প নেই। ডেস্কটপ ব্যবহারকারীদের উচিত ল্যান কেবল ব্যবহার করে রাউটারের সঙ্গে পিসি সংযুক্ত করা। মাদারবোর্ডের ল্যান পোর্ট অথবা ল্যান কার্ডের সর্বোচ্চ গতি কত, সেটাও খেয়াল করতে হবে। খুব পুরনো না হলে ল্যান পোর্টটি গিগাবিট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ক্যাট-৫ই বা ক্যাট-৬ কেবল দিয়ে গিগাবিট রাউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করলে অনায়াসে সেকেন্ডে ১১০ মেগাবাইট পর্যন্ত গতিতে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে, যদি ইন্টারনেট সংযোগটি গিগাবিট গতি সমর্থিত হয়। কন্ট্রোল প্যানেল বা নেটওয়ার্ক সেটিংস থেকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে গিগাবিট স্পিড চালু করা আছে কি না।

স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপে চেষ্টা করতে হবে ৫ গিগাহার্জ নেটওয়ার্কের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার। এতে সর্বোচ্চ গতি পাওয়া যাবে। তবে মনে রাখা চাই, ৫ গিগাহার্জ নেটওয়ার্কের পরিধি অনেক কম। রাউটার আর ওয়াই-ফাই ব্যবহারকারী ডিভাইসের মধ্যে যদি দেয়াল থাকে সে ক্ষেত্রে গতির হেরফের হতে পারে। রাউটার আর ডিভাইস দুটিই যদি অন্তত ওয়াই-ফাই ৬ সমর্থন করে তাইলে সহজেই ৫০০ মেগাবিট গতির সংযোগ পাওয়া সম্ভব।

 

রাউটার সেটআপ

বাসা বা অফিসের মধ্যখানে রাউটার রাখার চেষ্টা করতে হবে। এক পাশে থাকলে অন্য প্রান্তে ওয়াই-ফাইয়ের গতি পাওয়া যাবে না। সঠিক নেটওয়ার্ক চ্যানেল বাছাই করাও জরুরি। মাত্র ১২টি চ্যানেলের মধ্যে কাজ করে ২.৪ গিগহার্জ ওয়াই-ফাই, চেষ্টা করতে হবে সবচেয়ে কম ব্যবহৃত চ্যানেলে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সেটআপ করার। ৫ গিগাহার্জ নেটওয়ার্কের চ্যানেল বাছাই করার ক্ষেত্রে খেয়াল করতে হবে, ব্যবহৃত প্রতিটি ডিভাইস সে চ্যানেল সমর্থন করে কি না। এখানে ডিভাইস ও রাউটারে এক দেশের বাজার থেকে কেনা হলে রিজিওনজনিত সমস্যায় পড়তে হবে না। ওয়াই-ফাই রাউটার বেশ গরম হয়। তাই এটি বদ্ধ জায়গায় রাখা যাবে না। অতিরিক্ত গরম হয়ে রাউটারের কার্যক্ষমতা কমে নেটওয়ার্কের গতি কমে যেতে পারে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com