সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পদ্মার ভাঙনে রোধে সমবেতা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর পয়েন্টে জৈষ্ঠ্যমাসের শেষ দিকে উজান থেকে নেমে আসা জোয়ারের পানির তোড়ে যেন অনেকটাই ফুঁসে উঠেছে পদ্মা নদী। পদ্মার ভয়াল থাবায় উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলসহ নদীর দুই পাড়েই বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। এতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতবাড়িসহ শতশত একর ফসলি জমি। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার একর ফসলি জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে বলে সমীক্ষায় জানা যায়। এ পদ্মা ভাঙন রোধে স্থানীয়রা একটি গণসমাবেশও করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় প্রায় পঞ্চাশ দশক থেকে অনবদ্য নদী ভাঙনের ফলে ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯ ইউনিয়নই নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। এতে করে আজিমনগর, সুতালড়ী ও লেছড়াগঞ্জ তিনটি ইউনিয়ন সম্পূর্ণভাবে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে এই তিন ইউনিয়নে চর জেগে উঠলে নব্বই দশকের শেষ দিকে সেখানে জনবসতী গড়ে ওঠে। এ উপজেলার ভাঙন কবলিত অন্যতম আরেকটি ইউনিয়ন কাঞ্চনপুর। এ ইউনিয়নের ১৩টি মৌজার মধ্যে ১২টি মৌজা সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয় গেছে। এতে করে এই ইউনিয়নেরই প্রায় ১২টি গ্রাম পুরোপুরি নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই নদীতে জোয়ারের পানি আসতে না আসতেই এ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পানির তীব্র স্রোতে নদীর পাড় ধসে ভাঙন দেখা দেয়। অনেক জায়গায় পূর্বে ফেলানো আপদকালীন জিও ব্যাগসহ নদীতে ধসে গেছে।
তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কুশিয়ারচর এলাকায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার আপদকালীন জিওব্যাগ ডাম্পিং এর কাজ করা হলেও এই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মালুচি গ্রামে সম্প্রতি দেখা দেয় তীব্র ভাঙন। এতে নদী পাড়ের কলার বাগানসহ ফসলি জমি বিলীন হয়ে যায়। অব্যহত ভাঙনে নদী তীরবর্তীতে হুমকির মুখে রয়েছে প্রায় ২০টি বসত বাড়ি।
গতকাল শনিবার সকালে মালুচি গ্রামে পদ্মা ভাঙন রোধের দাবিতে স্থানীয়রা একটি গণসমাবেশ করেন। এই গণ সমাবেশে স্থানীয়রা দুই নম্বর ওয়ার্ডের মালচি গ্রাম প্রায় ৭শ’ মিটার দৈর্ঘ্য এরিয়া জরুরিভাবে জিওব্যাগ ডাম্পিং এর দাবি করেন।
গণ সমাবেশে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. খোরশেদ আলম বলেন, আমাদের ২নং ওয়ার্ডের মালুচি গ্রামে প্রায় ৭শ’ মিটার এরিয়ায় এখনো কোনো জিওব্যাগ পরেনি। ফলে জোয়ারের পানি আসার সাথে সাথেই এই এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এতে করে কৃষি জমিসহ বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তাই এই এলাকার কৃষি জমি এবং বসতবাড়ি রক্ষার্থে জরুরিভাবে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা সুইজারল্যান্ড প্রবাসী আব্দুর রহমান জানান, ৩নং ওয়ার্ডের কুশিয়ারচর এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হলেও এই মালুচি গ্রামের কিছু অংশ এখন পর্যন্ত কোনো জিও ব্যাগ পড়েনি। যার ফলে এ এলাকায় এখন তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত অনেক ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে এবং অনেক বসতভিটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই আমাদের দাবি, দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে এই এলাকাকে রক্ষার জোর দাবি জানাচ্ছি।
মালুচি গ্রামের বাসিন্দা হাফেজা বেগম জানান, ৩০ বছর আগে আমার স্বামীর বাড়ি নদীতে গেছে। তিন ভাঙা দেয়ার পরে প্রায় ১৫ বছর ধরে বাবার বাড়িতে ভাইয়ের জায়গায় বসবাস করছি। এ বাড়িটিও একবারে নদীর পাড়ে। যেকোনো সময় নদীতে চইলা যাইব। এই জায়গাটুকু নদীতে চইলা গেলে আমার আর যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না। তাই আমাগো দাবি, যত দ্রুত সম্ভব জিও ব্যাগ ফালানোর জন্য। যাতে আমাগো শেষ সম্বলটুকু রক্ষা পায়।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ইনকিলাবকে জানান, হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীর বাম তীরে কালিতলা থেকে মালুচি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যে এলাকায় আপদকালীন জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে ওই স্থানে নদী ভাঙন হ্রাস পেয়েছে। কালিতলা থেকে মালুচি পর্যন্ত অবশিষ্ট ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যে কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জরিপ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমাদের সার্বক্ষণিক ভাঙন এলাকা মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com