সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

জনসমক্ষে টাঙানো হবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে
মুক্তিযোদ্ধা
মুক্তিযোদ্ধা
গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা এবার জনসমক্ষে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি কার্যালয়ের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি জনসমাগমপূর্ণ উন্মুক্ত স্থানেও এই তালিকা প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় জনগণ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে অবহিত হতে পারবে। পাশাপাশি তালিকায় কেউ ‘অমুক্তিযোদ্ধা’ হয়ে থাকলে তাঁর বিষয়ে যেকোনো নাগরিক অভিযোগ জানাতে পারবে।
গত ৪ জুন এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে আগেও অনেক তুঘলকি কাণ্ড হয়েছে। অনেকেই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন, যাঁরা আদৌ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। জনমনে প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই এখন শুধু ওয়েবসাইটে নয়, জনসমক্ষে তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি তালিকা দেখে অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করে অভিযোগ করতে পারে।

’এর আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগের সরকারের তালিকা অনুসারে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের বিরুদ্ধে অমুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাঁদের ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। তবে আমরা যখন ওয়েবসাইটে অভিযোগ আহবান করেছিলাম, প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। তাই এখন উন্মুক্ত স্থানে তালিকা টাঙিয়ে জনগণের সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।

’উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পান ফারুক-ই-আজম। এর পরই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে নানা পদক্ষেপ নেয় মন্ত্রণালয়।

২০২৩ সালের মার্চে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা এক লাখ ৯৭ হাজার ৮৫৫। এর বাইরে খেতাবপ্রাপ্ত, শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন ১০ হাজার ৯৯৬ জন।

ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধা আছেন এক লাখ ৯৬ হাজার ৪৫৪ জন। তাঁদের মধ্যে জীবিত মুক্তিযোদ্ধা ৯১ হাজার ৫৫ জন।মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা ওয়েবসাইটে সেই এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ এই তথ্য জানে না। এমনকি অনেক শিক্ষিত মানুষও জানেন না, তাঁদের এলাকায় কতজন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

তাই প্রতিটি উপজেলার জনবহুল এলাকায়; যেমন—উপজেলা পরিষদের নোটিশ বোর্ড, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), বাজার কিংবা অন্যান্য খোলামেলা স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ও স্থায়ী ঠিকানাসহ তালিকা টাঙানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—সাধারণ মানুষ যেন জানে কারা তাদের এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা। পাশাপাশি কেউ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হলে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগও জানাতে পারে।

এ ছাড়া ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে একটি অভিযোগ ফরম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারকে অভিযোগ পাঠানো যাচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েক শ অভিযোগ জমা পড়েছে, যদিও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি। তাই আরো কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে তালিকা জনসমক্ষে প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com