যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে।
ভূমিতে স্থাপিত ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থার মাধ্যমেই এগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে। এখনো যুদ্ধবিমান কিংবা যুদ্ধজাহাজের সহায়তা নেওয়া হয়নি।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা এখনো ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিবিসির খবরে জানা যায়, গতকাল শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র এফি ডেফরিন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর ১৫০টিরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে।
তেল আবিবের পূর্বদিকের এলাকা রামাত জানের বিধ্বস্ত ভবনের আশপাশ থেকে আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার ছবি ও ভিডিও দেখা গেছে। ইসরায়েলের তেল আবিব মহানগর এলাকায় রকেট হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় অ্যাম্বুল্যান্স সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা থামার লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
বিবিসি লিখেছে, পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। তেল আবিবের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইরান বাস্তবিকই ইসরায়েলের ক্ষতি করতে পারে। সেটি যে সম্ভব হতে পারে তার প্রথম লক্ষণ এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
ইসরায়েলের ক্ষয়ক্ষতি : ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। পঞ্চম দফায় হামলা শুরু করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লব গার্ড কর্পস (আইআরজিসিতে)। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন রিশন লেজিওনের বাড়িঘরের কাছে এবং অন্যজন রামাত গান এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে মারা গেছে। প্রায় ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তেল আবিব, জেরুজালেমসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ শোনা গেছে। বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। রিশন লেজিওন ও আশপাশের এলাকায় মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে। জরুরি বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
যা বলল হামাস : ইরানের ইসরায়েলে চালানো সাম্প্রতিক হামলাকে ‘সফল ও কার্যকর’ আখ্যা দিয়ে প্রশংসা করেছেন হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা ইজ্জাত আল-রিশেক। স্থানীয় ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, এই হামলায় ইসরায়েলের অহংকার চূর্ণ হয়ে গেছে। রিশেক বলেন, ইসরায়েলের তথাকথিত আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। তারা এখন সেই আগুনেই পুড়ছে, যা তারা বহু বছর ধরে এই অঞ্চলের নিরীহ মানুষের ওপর জ্বালিয়ে রেখেছিল।
রাতে পাঁচবার জায়গা বদল করেছেন মার্কিন দূত : ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক হাকাবি শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত পাঁচবার নিরাপদ জায়গায় সরেছেন। ইসরায়েলে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে বারবার জায়গা বদল করেছেন তিনি। সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকতে হয়েছে তাঁকে। গতকাল শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলে অবস্থানরত হাকাবি এসব কথা বলেছেন। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ইসরায়েলে এক কঠিন রাত কাটল।’ প্রতি শনিবার ইহুদিদের সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিনটিকে শাব্বাত নামে ডাকা হয়ে থাকে। হাকাবি বলেন, ‘শাব্বাত সাধারণত শান্তিপূর্ণভাবে কাটে, কিন্তু এবার সম্ভবত তা হবে না।’
দলবল নিয়ে মাটির নিচে পালালেন নেতানিয়াহু : তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন অংশ লক্ষ্য করে এরই মধ্যে তিন দফায় শত শত মিসাইল ছুড়েছে তেহরান। মধ্যরাতে এ হামলার সঙ্গে সঙ্গেই মাটির নিচে বাংকারে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেখানে তাঁর সঙ্গে অবস্থান করছেন তাঁর সব নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ও উচ্চপদস্থ মন্ত্রীরা। শনিবার মধ্যরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল।
এদিকে নতুন আইআরজিসি প্রধানের এ বার্তার কয়েক ঘণ্টা না যেতেই ইসরায়েলে মিসাইল হামলা শুরু করে ইরান। স্বল্প সময়ের মধ্যে তিন দফায় মিসাইল হামলা করেছে তেহরান, যেখানে প্রথম দফায়ই ছোড়া হয়েছে শতাধিক মিসাইল।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে পুতিন-ট্রাম্প ফোনালাপ : ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ফোনে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
ইসরায়েলি অন্তত ১০টি বিমান ধ্বংসের দাবি : ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র গতকাল জানিয়েছেন, ইরানে হামলা চলছে। শত্রুপক্ষের এখনো এমন অস্ত্রাগার রয়েছে, যেগুলো ইসরায়েলের ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইসরায়েল ইরানের ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে হামলা ও সেগুলো ধ্বংস অব্যাহত রাখবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এক ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি অন্তত ১০টি বিমান ইরানের বিভিন্ন স্থানের আকাশসীমা থেকে ভূপাতিত করা হয়েছে।