সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পাপোশ তৈরি করে স্বাবলম্বী

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

পাপোশ তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের হুমায়ুন কবির । পাপোশ তৈরি করে মাসে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা । শুধু তাই নয়, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন দুই শতাধিক নারীর। চেষ্টার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়া যায়, তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

জানা গেছে, চাকরির সন্ধানে না ছুটে নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৯ সালে ছোট্ট পরিসরে পাপোশ তৈরি করা শুরু করেন ঠাকুরগাঁওয়ের হুমায়ুন কবির। পাপোশ তৈরির কারখানা প্রথমদিকে অনেক ঝড় বইয়ে যায়। এছাড়াও করোনার সময় ব্যবসাটিও প্রায় থমকে গিয়েছিল, তখনো তিনি স্বপ্ন দেখা থামাননি। নিজ জেলার একটি বেসরকারি সংস্থা সহায়তার জন্য এগিয়ে আসে । ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেন হুমায়ুন কবির।

জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নেয় পাপোশ তৈরি ও বিপণন ব্যবসা। ইএসডিওর রেইজ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা তাবরেদী রায় বলেন, ঋণ সহায়তা পেয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সেনুয়া নদীর তীরঘেঁষে বরুনাগাঁও গ্রাম। গ্রামেই তার ছোট্ট এই কারখানা। সকাল থেকেই শুরু সেলাই মেশিনের নানান খুটখাট শব্দ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সরেজমিনে দেখা যায়, কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন নারীরা। এখানে কেউ পাপোশ তৈরি করছেন, কেউবা আবার তৈরি করছেন রশি, আবার কেউ ব্যস্ত রঙ আর ফিনিশিংয়ের কাজে ব্যস্ত কারখানায়।

কারখানায় কর্মরত নারী শাম্মী আক্তার বলেন, আগে বাড়িতে বসে থাকতাম। এখানে কাজ করে নিজের আয় করতে পারছি। সংসারে সহযোগিতা করতে পারছি।

আমাদের জন্য এই কাজটা অনেক উপকার হয়েছে। কারখানায় কর্মরত নুরবান পড়ালেখার পাশাপাশি খণ্ডকালীন পাপোশ তৈরি করে সংসার চালাচ্ছেন। আরেক নারী ফাতেমা বেগম বলেন, পাপোশ তৈরি করা, সেলাই করা, ফিনিশিং দেওয়া সবকিছুই আমি করি। এখানকার নারীরা কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। মাসে আমরা প্রায় ১৫-১৬ হাজার টাকা উপার্জন করি। রেইজ প্রকল্পের কর্মকর্তা বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে মানুষকে যুক্ত করা এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা।

হুমায়ুন কবির জানান, ২০১৯ সালে পল্লি কর্মসংস্থান ও ইএসডিওর প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিন লাখ টাকা ঋণ সহায়তা পাওয়ার নতুন উদ্যমে পাপোশ তৈরির কাজ শুরু করেন ।

আজ আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। বর্তমানে এই কারখানায় ৪৮ জন নারী নিয়মিত এবং প্রায় ১৫০ জন নারী খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজ করছেন।

এ ব্যাপারে হস্তশিল্প ও কারুপণ্য সংস্থার পরিচালক চন্দনা ঘোষ বলেন, নিষ্ঠার সঙ্গে লেগে থাকলে যেকোনো শিল্পকর্ম মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

এ ব্যাপারে বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, সঠিক প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহযোগিতা, আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা এবং নিজের চেষ্টা থাকলে হুমায়ুন কবিরের মতো উদ্যোক্তা হয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব। হুমায়ুন কবির এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ।

খুঁজুন

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com