মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে ফ্লাইট বাতিল, যাত্রা অনিশ্চয়তা এবং কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় নতুন সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বৈদেশিক শ্রমবাজার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি এবং অন্যজন বগুড়ার শাজাহানপুরের মো. শাহেদ আহম্মেদ। হামলায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। আহতদের সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ঢাকা-রিয়াদ রুটে একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে প্রায় তিন হাজার যাত্রীর সৌদি আরব যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাঁদের অনেকেই ছুটিতে দেশে এসে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে ফিরতে না পারলে চাকরি ও ভিসার মেয়াদ নিয়ে জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা করছেন প্রবাসীরা।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানেও। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চাকরি নিয়ে বিদেশ গেছেন ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৭১ বাংলাদেশি। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৮০৪। অর্থাৎ, কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে। চলতি বছরের একই সময়ে দেশটিতে গেছেন ২ লাখ ১ হাজার ৩৬১ বাংলাদেশি কর্মী, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ কম। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের গন্তব্য।
সৌদি আরবের পাশাপাশি কুয়েত, কাতার ও ইরাকেও বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও সিঙ্গাপুরে কর্মী পাঠানোর গতি আশানুরূপ নয়। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ থাকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস কাজ করছে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনায় হামলা বন্ধ এবং সংলাপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন শুধু প্রবাসীদের নিরাপত্তার জন্যই নয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে দেশের শ্রমবাজারে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শীর্ষ খবর
সৌদি আরব