প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যেক শিশুর মধ্যে কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে। তাই তার পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। শিশুদের সেই প্রতিভা বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার শিশু অধিকার দিবস এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে তারা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে এবং একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
শিশুদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, শুধু লেখাপড়ায় ভালো হলেই হবে না; খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, সংগীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ভালো করতে হবে। কোনো শিশু ভালো ছবি আঁকতে পারে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে পারে, কেউ গান বা বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে; আবার কেউ নাচ কিংবা কোরআন তেলাওয়াতে পারদর্শী। ফলে সবাইকে তার মতো করে বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। শিশুদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও সরকার সুযোগ সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি চালু করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগের পাশাপাশি খেলাধুলার বিকাশেও নতুন কর্মসূচি নিয়েছে।
ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের কথা বিবেচনায় শিশুদের বিদেশি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, মান্দারিন, জার্মান, জাপানিসহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ শিশুদের জন্য সৃষ্টি করা হবে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের জন্য যারা বিদেশে যাবে, তাদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা জানা অত্যন্ত সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক পরিসরে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাড়তি সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।
তিনি শিশুদের গাছপালা ও পশুপাখির যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি গাছকে শিশুর মতো যত্ন করে বড় করে তুলতে হবে। একইভাবে আশপাশের পশুপাখির প্রতিও সহানুভূতিশীল হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। কোনো বড় মানুষকে যত্রতত্র ময়লা ফেলতে দেখলে বিনয়ের সঙ্গে তাকে সঠিক স্থানে ময়লা ফেলার কথা বলতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরিবেশনায় অংশ নেওয়া শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি। এ সময় শিশুদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনে যান এবং ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু তাঁকে বরণ করে নেয়। পরে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
শৈশব হতে হবে সুরক্ষিত: জোবাইদা রহমান
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, শৈশব হতে হবে নিরাপদ। তাদের ভবিষ্যৎ হতে হবে সুরক্ষিত। তবেই নতুন উদ্যমে শিশুরা তাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে সফল হবে।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সভাপতিত্ব করেন।
বাংলাদেশে ২০২৭ সালে হাইব্রিড গাড়ি উৎপাদন শুরু করবে টয়োটা
বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের পাশাপাশি হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকল (এইচইভি) উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে টয়োটা। ২০২৭ সালে দেশের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই উদ্যোগের কাজ শুরু করে ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে দেশে টয়োটার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে টয়োটা তুশো করপোরেশন।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে টয়োটা তুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে এসব পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন এ তথ্য জানান।
বৈঠকে টয়োটা তুশো করপোরেশনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে টয়োটার গাড়ি উৎপাদনে কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন, গেজেট প্রকাশ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভায় গৃহীত অভিনন্দন প্রস্তাব গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি অতিরিক্ত গেজেট জারি করা হয়।