সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সংবিধান সংস্কারে বৃহত্তর ঐকমত্য জরুরি : ইইউ রাষ্ট্রদূত

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

চব্বিশ-উত্তর বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কারের যে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা সফলভাবে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের কর্মঅধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এবারের সম্মেলন ৩ থেকে ৫ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য—‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস : নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’।

মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। একদিকে দেশটি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক রূপান্তর, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আরও জবাবদিহিতামূলক করা, অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু ঝুঁকি এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিবেশের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চাপ সামাল দিতে বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং পূর্বানুমেয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রয়োজন। সংবিধান সংস্কারের যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হয়েছে, তা এখনো শেষ হয়নি। এ প্রক্রিয়াকে সামনে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক পরিসরে আরও বৃহত্তর ঐকমত্য তৈরির উদ্যোগ জরুরি।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক এখন আর কেবল দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন অংশীদার হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ যাতে মসৃণ ও সফল হয়, সে জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঢাকার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাও যাচাই করছে ইইউ।

মিলার জানান, এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকা কোনো দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ ইইউর জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে গতি, সংস্কার ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখানো হবে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নও এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, একটি ভারসাম্যপূর্ণ, পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য চুক্তির জন্য দুই পক্ষের অভিন্ন স্বার্থ ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো আগে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশে সমান ও প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। ইইউ এর আগে বাংলাদেশকে অশুল্ক বাধা কমানো, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা ও বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর জোর দিয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূত জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, শ্রমিকের অধিকার, মানবাধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ও মানসম্মত বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং তরুণদের জন্য অর্থবহ কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা, তথ্য ও উপাত্তের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং নীতিনির্ধারণে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগের প্রসঙ্গে মাইকেল মিলার বলেন, ইইউর অংশীদারত্বের বিশেষত্ব হলো বিনিয়োগের সঙ্গে তাদের মূল্যবোধ ও মানদণ্ডের সমন্বয়। প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মান, দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে সহযোগিতা করতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালকে এ সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। লালদিয়া টার্মিনালে প্রায় ৫০ কোটি ইউরোর বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের বন্দর ও সামুদ্রিক অবকাঠামোয় ইউরোপীয় বিনিয়োগের অন্যতম বড় উদ্যোগ।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও সক্ষম করে তুলতে, অর্থনীতির আধুনিকায়ন ঘটাতে এবং একটি উন্মুক্ত, সার্বভৌম, স্থিতিস্থাপক ও বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত দেশ হিসেবে এগিয়ে নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতা করতে চায়। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, সুশাসন ও সংস্কারের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।


বিভাগ : জাতীয়

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com