মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য প্রাণঘাতী বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল তাঁর শরীরে। একবার নয়, পরপর দু’বার! কিন্তু তার পরেও মৃত্যু হল না বছর পঞ্চাশের মহিলা বন্দি ক্রিস্টা পাইকের। বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা নাগাদ (ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে) ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তাঁকে ‘পেন্টোবারবিটল’ নামে দু’টি রাসায়নিক ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও তাঁর মৃত্যু হয়নি।
সংবাদসংস্থা এপি জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড প্রক্রিয়া চলাকালীন দু’বার ঘরের পর্দা টেনে দেওয়া হয় এবং এক পর্যায়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও বেরিয়ে যেতে বলা হয়। পাইকের আইনজীবীরা মাঝপথেই মৃত্যুদণ্ড রদ করার জন্য জরুরি পিটিশন দাখিল করে জানান, “পাইক জ্ঞান হারিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর হৃৎস্পন্দন চলছে এবং তিনি সশব্দে নাক ডাকছেন।” এর পরই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। টেনেসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম সেটের ওষুধ কাজ না করলে দ্বিতীয় সেটের ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় সেটের পরেও বন্দি বেঁচে থাকলে কী করণীয়, সে বিষয়ে নিয়মে স্পষ্ট কিছু বলা নেই।
ঘটনার জেরে টেনেসির গভর্নর বিল লি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘থার্ড-পার্টি’ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, চলতি বছরের বাকি থাকা সমস্ত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছেন তিনি। যদিও টেনেসির সংশোধন দফতরের দাবি, তারা আইনি প্রোটোকল মেনেই কাজ করেছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে মে মাসে তিন জনকে খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত টোনি কারুথার্স নামে এক বন্দির শিরা খুঁজে না পাওয়ায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছিল।