সিডিসির সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, বছরে আনুমানিক ৬০ জন জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়।
তবে শুধু মানুষকে টিকা দিলেই জলাতঙ্কের ঝুঁকি পুরোপুরি কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
দেশে এমন পরিস্থিতিতে আজ ২৮ সেপ্টেম্বর পালিত হছে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস।
বিশ্বব্যাপী ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু শূন্যে নামানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ডব্লিউএইচও বলছে, জলাতঙ্কের উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগটি প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী হলেও প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার, প্রয়োজনীয় টিকা ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন গ্রহণের মাধ্যমে মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়।
রোগী বেড়েছে ৫৭ শতাংশ : গত তিন বছরে ঢাকার মহাখালীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রাণীর কামড়ের শিকার রোগী বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষ প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের প্রায় ৬৫ শতাংশই বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত। শিশু ও নারীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি। প্রাণীর কামড়ের শিকার হয়ে হসপাতালটির বহির্বিভাগে ২০২৩ সালে চিকিৎসা নেয় ৯৩ হাজার ৩৮০ জন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় এক লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩। অর্থাৎ, তিনি বছরে রোগী বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। সর্বশেষ চলতি বছরে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রোগী প্রায় এক লাখ সাত হাজার ৫৫৮ জন। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাণীর কামড়কে অনেকেই শুরুতে তেমন গুরুত্ব দেন না। বিশেষ করে বিড়ালের আঁচড় বা ছোট ক্ষতকে অনেকে সামান্য আঘাত মনে করেন। কিন্তু জলাতঙ্কের জীবাণু বহনকারী প্রাণীর কামড় বা আঁচড় থেকে এই প্রাণঘাতী রোগ ছড়াতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. এফ এ আসমা খান বলেন, প্রতিদিনের রোগীদের প্রায় ৬৫ শতাংশই বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত। পোষা ও বেওয়ারিশ—দুই ধরনের বিড়ালের কামড়েই রোগী আসছে। এসব রোগীকে ভর্তি রাখা হয় না। টিকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যারা জলাতঙ্ক আক্রান্ত শুধু তাদের ভর্তি দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালটিতে একজন ভর্তি রয়েছে।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জাকিয়া সুলতানা বলেন, কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি বা অন্য প্রাণীর কামড়ের পর রোগীর ক্ষত ও ঝুঁকি বিবেচনা করে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী আরআইজি ও টিটেনাসও দিতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাণীর কামড়ের পর প্রথম কাজ ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও প্রবহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা। এরপর দেরি না করে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে মাথা, মুখ, ঘাড় বা শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে কামড়, গভীর ক্ষত কিংবা রক্তপাত হলে ঝুঁকি বেশি।
জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো—লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগটি প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী। অথচ কামড়ের পর দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করা, প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা ও আরআইজি নেওয়া গেলে মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই প্রাণীর কামড়কে ছোট ঘটনা হিসেবে না দেখে প্রতিটি ঘটনাকেই সম্ভাব্য জলাতঙ্কের ঝুঁকি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।