স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ’ বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সভায় দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সবুজ অর্থনীতি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং সার্কুলার অর্থনীতিসহ সবুজ শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় বিশ্বনেতাদের সামনে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। এগুলো হলো—
১. প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়ন সীমা বজায় রাখতে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো।
২. জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
৩. জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে অধিকতর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণে সহায়তা করা।
৪. সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।
৫. ‘ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান’ (Loss and Damage) তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণ নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।