সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

প্রতি ৪০ সেকেন্ডে বিশ্বের কোথাও না কোথাও একজন মানুষ আত্মহত্যা করছে। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী সাত লাখের বেশি মানুষ এভাবে প্রাণ হারাচ্ছে, যা ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রতিরোধযোগ্য অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ।

প্রতিটি মৃত্যুর বিপরীতে অন্তত ২০ জন বা তারও বেশি মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করে। যার ফলে সৃষ্টি হয় মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগের এক দীর্ঘ ধারা, যা কোনো মৃত্যুর পরিসংখ্যানেই সম্পূর্ণভাবে ধরা পড়ে না। শোকাহত পরিবার, বিপর্যস্ত সম্প্রদায় এবং বেঁচে যাওয়া মানুষদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত বলে দেয়, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সংখ্যার চেয়ে অনেক গভীর। বাংলাদেশও এই বোঝার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বহন করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, ২০২১ সালে দেশে চার হাজার ৭১৪ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ জন। প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষ একটি অভিন্ন বার্তা নিয়ে এক হোন- আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা ও ডব্লিউএইচওর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই দিবসের লক্ষ্য হলো- সতর্কতামূলক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, সামাজিক কুসংস্কার কমানো এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য ‘Changing the Narrative on Suicide’.

বহুমুখী এক সংকট : আত্মহত্যার পেছনে কোনো একক কারণ থাকে না। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে দেখেন পরস্পর সম্পর্কিত ঝুঁকির একটি জটিল জালের মধ্য দিয়ে- বিষণ্নতা ও অন্যান্য মানসিক ব্যাধি, শিক্ষাগত চাপ ও পরীক্ষার উদ্বেগ, দাম্পত্য ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, আর্থিক সংকট, মাদকাসক্তি এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের মতো সহজলভ্য মাধ্যম। বাংলাদেশে প্রতি আটজন শিশু-কিশোরের মধ্যে একজন মানসিক ব্যাধিতে ভুগছে, অথচ সামগ্রিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি ৯০ শতাংশেরও বেশি বলে ধারণা করা হয়। যাদের সেবা প্রয়োজন, তাদের বেশির ভাগই তা কখনো পায় না।

এদিকে বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনে আত্মহত্যার চেষ্টা এখনো একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বেঁচে যাওয়া মানুষ ও তাদের পরিবারকে সাহায্য চাইতে বা ঘটনা জানাতে নিরুৎসাহ করে এবং কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে এবং কেন- তা বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলাও কঠিন করে তোলে।

প্রমাণভিত্তিক তথ্য কী বলছে : ডব্লিউএইচওর বৈশ্বিক নির্দেশিকা ‘LIVE LIFE’ চারটি স্তম্ভের কথা বলে, যেগুলো শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতে দেশগুলো এখনই বাস্তবায়ন করতে পারে : আত্মহত্যার উপায়ের সহজলভ্যতা সীমিত করা। দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিবেদন উৎসাহিত করা- আত্মহত্যার পদ্ধতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর বিবরণ এড়িয়ে সাহায্য পাওয়ার পথ তুলে ধরা।  কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক-আবেগিক জীবনদক্ষতা গড়ে তোলা- স্কুলে কাঠামোবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের সহনশীলতা গড়ে তোলা। এ ছাড়া আত্মহত্যাপ্রবণ আচরণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ, মূল্যায়ন, ব্যবস্থাপনা ও পরবর্তী পর্যবেক্ষণ- সতর্কতামূলক লক্ষণ চিহ্নিত করতে এবং উপযুক্ত সেবায় রেফার করতে ডাক্তার, নার্স ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এই চারটি স্তম্ভকে টিকিয়ে রাখতে হলে দরকার একটি বৃহত্তর সহায়ক পরিবেশ।

বাংলাদেশ এখন যা করছে : সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডব্লিউএইচওর খওঠঊ খওঋঊ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে একটি বহুখাতভিত্তিক জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে, যা সরকারি প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে গঠিত হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে এরই মধ্যে LIVE LIFE পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

আমাদের যা করণীয় : সরকারি নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ, তবে আত্মহত্যা প্রতিরোধ শুধু স্বাস্থ্য খাতের একার দায়িত্ব নয়। সরকার ও নীতিনির্ধারকদের উচিত মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে যথাযথ অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং আত্মহত্যার চেষ্টার আইনি অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা, যাতে সংকটে থাকা মানুষকে অপরাধী হিসেবে নয়, যত্নের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং ও  প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া ব্যক্তিও যথাযথ চিকিৎসা পায়। স্কুল ও শিক্ষকদের জীবনদক্ষতা ও সামাজিক-আবেগিক শিক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারিত করতে হবে, যাতে  শিক্ষার্থীরা প্রথম থেকেই চাপ, হতাশা ও দ্বন্দ্ব মোকাবেলা করতে শেখে। সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে আত্মহত্যা সম্পর্কিত দায়িত্বশীল প্রতিবেদনের ডব্লিউএইচও নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের হতাশা কিংবা নিজেকে বোঝা মনে করার মতো সতর্কতামূলক লক্ষণ চিনতে শিখতে হবে এবং প্রয়োজনে সাহায্য করতে হবে। সবার উচিত মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যা নিয়ে খোলামেলা কথা বলা অব্যাহত রাখা। কারণ নীরবতার ওপরই কুসংস্কার টিকে থাকে আর কথোপকথনই প্রাণ বাঁচায়।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com