মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সুলতান উৎসব

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

শতাধিক শিশু আঁকতে বসেছে। তাদের রং-তুলির আঁচড়ে উঠে আসছে বাংলাদেশের পতাকাসহ ফুল-ফল, প্রকৃতি, গ্রামীণ পরিবেশ, সুলতানের প্রতিকৃতি, নৌকাবাইচসহ নানা বিষয়। শুক্রবার নড়াইলে দেখা গেল এ দৃশ্য। বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলাটিতে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসব। এর উদ্বোধনী দিনের শুরুর ভাগেই অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে গতকাল শুক্রবার সকালে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক। এর আগে বছর দুয়েক বন্ধ ছিল এই উৎসব। গতকাল সুলতান উৎসবে আসা কুড়িগ্রামের ভস্কর বিশ্বাস বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। সব থেকে ভালো লেগেছে– সকালে আমার মেয়েটা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।’

উৎসবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ছাড়াও নানাবিধ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এবার হচ্ছে না নৌকাবাইচ। বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীদের অনেকে। গোপালগঞ্জের গোবরা থেকে সুলতান উৎসবের মেলা দেখতে আসা মিতালী গোলদার বলেন, ‘আমরা সারাবছর ধরে অপেক্ষায় থাকি এই সুলতান উৎসবের জন্য। অনেক দিন এই মেলা বন্ধ ছিল। এ বছর আবার হচ্ছে। শিল্পী সুলতানকে ঘিরে এই উৎসবে প্রতিবছর নৌকাবাইচ হতো। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে মানুষ আসতো নৌকাবাইচ দেখার জন্য। কিন্তু এই বছর তেমন কোনো আয়োজন নেই। মানুষ এসে ফিরে যাচ্ছে।’

এদিকে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা শিশুশিল্পী তৃজয় রায় বলেন, ‘এখানে এসে আমার খুব ভালো লাগছে। আমি সুলতানের ছবি এঁকেছি, পাশে নদীতে নৌকা চলছে। প্রতিবছর এ রকম আয়োজন হলে খুব ভালো হবে। তবে এই বছর নৌকাবাইচ না হওয়াতে আনন্দটা কম হচ্ছে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হায়দার আলী দেওয়ান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ হানিফ, সদস্য সচিব সসীম সরকার, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুন্ডুসহ আরও অনেকে।

দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে। চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৩ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মেছের আলী ও মায়ের নাম মাজু বিবি। শিল্পী রং-তুলিতে গ্রামীণ জীবন, কৃষক-শ্রমিক ও তাদের পেশিশক্তিকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। চিত্রকলায় বিশেষ অবদানের জন্য এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। এ ছাড়াও দেশ-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হন।

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরে মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী-খ্যাত সুলতানকে নড়াইল শহরের মাছিমদিয়ায় স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com