মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

কচুরিপানা নিয়ে বিপাকে চলনবিলের কৃষক

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলাজুড়ে বিস্তৃত দেশের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন কচুরিপানার দখলে। এতে বিপাকে পড়েছেন বিলপাড়ের কৃষক, জেলে, নৌকার মাঝি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। কচুরিপানার জটে ব্যাহত হচ্ছে নৌ-চলাচল ও জলপথের বাণিজ্য। একই সঙ্গে ভরা বর্ষায় মাছের প্রজনন কমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে মাছের সংকটের আশঙ্কা।

চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়া এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, ভাঙ্গুড়া ও হান্ডিয়াল এলাকার বিভিন্ন বিলে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে কচুরিপানার বিস্তার ঘটেছে। গুরুদাসপুরের খুবজীপুর ইউনিয়নের বিলশা, বামনবাড়িয়া, পিপলা, শ্রীপুর, বিলহরিবাড়ী, যোগেন্দ্রনগর, মশিন্দা, বিশ্বরোডের ১০ নম্বর ব্রিজ এলাকা এবং সিংড়ার ডাহিয়া, ইতালী, চৌগ্রাম, কলম, তাজপুর ও শেরকোল ইউনিয়নসহ অন্তত ৩০টি গ্রামের বিলাঞ্চলে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, বিলসা বিলের প্রায় ৭০০ হেক্টর জমি কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। এতে কৃষকের আমন ধান, আগাম সরিষা, গম ও ইরি-বোরো চাষাবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিগত বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই কচুরিপানার আগ্রাসনে নতুন করে প্রায় ৩০ হাজার কৃষক দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। বিলে দেশীয় মাছের উপস্থিতিও আগের তুলনায় কমে গেছে।

কৃষকরা জানান, জমি থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে বাড়তি শ্রমিক ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এক বিঘা জমি পরিষ্কার করতে ১০-১২ জন শ্রমিক প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন একজন শ্রমিককে দিতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা। ফলে প্রতি বিঘায় কেবল কচুরিপানা পরিষ্কার করতেই অতিরিক্ত ৫-৭ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। অনেক কৃষক ঋণ করে জমি পরিষ্কারের চেষ্টা করলেও শ্রমিক সংকটে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

বিলশা গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন, বামনবাড়িয়ার গোলাপ মন্ডল, পিপলার ময়েজ উদ্দিন ও হরদমার হাসান আলী বলেন, কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে কৃষকের পকেটের টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি জমিতে আড়াইল ঘাসের পরিমাণও বাড়ছে।

সিংড়ার ডাহিয়া গ্রামের রুবেল আলী ও কাউয়াটিকরি গ্রামের বাবলু সরকার বলেন, কচুরিপানা পরিষ্কার করতেই প্রতি বিঘা জমিতে অতিরিক্ত ৫-৭ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা না থাকায় অনেক কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন। চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটির গুরুদাসপুর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আক্কাছ বলেন, চলনবিল দেশের অন্যতম খাদ্যশস্য ভাণ্ডার। বিলের জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হলে খাদ্য সরবরাহে চাপ পড়বে। কচুরিপানার কারণে জলজ জীববৈচিত্র্যও ধ্বংস হচ্ছে এবং পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলন বলেন, দ্রুত সরকারি উদ্যোগে কচুরিপানা অপসারণ করা না হলে চলনবিলের কৃষি অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম রাফিউল ইসলাম ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা জানান, বিলসা বিলে প্রায় ৭০০ হেক্টর কৃষিজমি কচুরিপানার নিচে রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মা ও পোনা মাছ নিধনকারী অবৈধ সোঁতিজালের কারণে কচুরিপানা আটকে জট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আবদ্ধ বিলে মাছের প্রজনন কমে যাচ্ছে। কচুরিপানা ও সোঁতিজাল অপসারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি মেশিন দিয়ে কচুরিপানা কেটে পরিষ্কারে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com