পাশাপাশি নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান র্যাবসংক্রান্ত বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলকে ৯ উইকেটে পরাজিত করেছে। বাংলাদেশ দলের এই সাফল্য শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, দলগত সংহতি ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার একটি উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এই ঐতিহাসিক সাফল্য দেশের তরুণ ও উদীয়মান প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরো উৎসাহিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি আরো সুদৃঢ় করবে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মন্ত্রিসভা আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৭টি মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৮৪টি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব বৈঠকে গৃহীত ১০৮টি সিদ্ধান্তের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ৮০টি (৭৪ শতাংশ) এবং বাস্তবায়নাধীন রয়েছে ২৮টি (২৬ শতাংশ)। মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ মেয়াদে সর্বমোট ৪৩টি আন্ত মন্ত্রণালয় সভা হয়েছে।
এসব মেয়াদে সাতটি নীতি/কর্মকৌশল/কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। প্রতিবেদনাধীন মেয়াদে তিনটি আন্তর্জাতিক চুক্তি-প্রটোকলের খসড়া স্বাক্ষর বা অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং দুটি বাস্তবায়নাধীন। বর্তমান সরকারের মেয়াদে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ১০৪টি আইন পাস করা হয়েছে।
সিসা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি হ্রাসে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর (শিশু, গর্ভবতী নারী ও শ্রমিক) সুরক্ষা এবং সিসাদূষণ/বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ একান্ত জরুরি। সিসা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নিউরোটক্সিন, যার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। সিসা বিষক্রিয়ার ফলে স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতি যেমন—স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বুদ্ধিবৃত্তি কমে যাওয়া, আচরণগত সমস্যা, রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া, কিডনির রোগ, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ, প্রজনন স্বাস্থ্য ও গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি, হাড় ও দাঁতের সমস্যা, পাচনতন্ত্রের সমস্যা হতে পারে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য—কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। কাঁচা মরিচ ও টমেটো দেশের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য। জনস্বার্থে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৬১ শতাংশ থেকে হ্রাস করে প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রথম মাসে ২০.৫ শতাংশ এবং পরের মাসে ৩১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে।
বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে, অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে, ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে। আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং অতঃপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সড়ক ও বাঁধ ভাঙন রোধে পরিবেশবান্ধব বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সভা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বৈঠকে বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম। বৈঠকে বিন্না ঘাসের উপকারিতা এবং দেশের সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে এই ঘাসের ব্যবহার নিয়ে একমত পোষণ করা হয়। বৈঠকে ঠিক কোন কোন প্রকল্পে এই ঘাসের ব্যবহার করা যেতে পারে, তা আরো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার জন্য অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে প্রস্তাবক ড. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান।