প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠকের পরদিন গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। গত রবিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর নয়াদিল্লিতে যান ভারতের হাইকমিশনার।গতকাল নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ঢাকার বার্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জানা গেছে, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জনগণকেন্দ্রিক ও গঠনমূলক উপায়ে আরো শক্তিশালী করতে নরেন্দ্র মোদির দিকনির্দেশনা চেয়েছেন।
এদিকে ভারত সরকার অভিন্ন জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি কূটনৈতিক বৈঠক এবং আসন্ন ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। গতকাল নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।তিনি জানান, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশপ্রধানকে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ সেশনে’ অংশগ্রহণের জন্য পৃথক আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের এসব আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারি আরো জোরদার করতে চায় ভারত। একই সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনার অগ্রগতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে।দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অংশীদারি এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের আন্ত সীমান্ত সম্পর্ক আরো গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে।
এদিকে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ব্রিকসের নিয়ম অনুযায়ী আঞ্চলিক জোটের প্রধানদের এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবর্তে তাঁর একজন প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
গত সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে নয়, বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আমন্ত্রণপত্রে তারেক রহমানের নামের আগে ‘প্রধানমন্ত্রী’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি। তাঁদের মতে, এটি কূটনৈতিকভাবে বিব্রতকর। কারণ তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং একই সঙ্গে পদাধিকারবলে বিমসটেকের চেয়ারপারসন।
গত সোমবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়ারও আহবান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়েও বাংলাদেশ তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ প্রসঙ্গে গতকাল নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের অনুরোধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।